দশ বছররেও একুশে পদকে ভূষিত খুলনার বরেণ্য সাংবাদিক হুমায়ূন কবির বালু হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ হয়নি। এরইমধ্যে এ হত্যা মামলায় একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। আর তদন্ত কর্মকর্তাও পরিবর্তন হয়েছে বহুবার।
এতকিছুর পর খালাস পেয়ে গেছে সব আসামি। এ ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার অধিকতর তদন্ত ৫ বছরেও শেষ হয়নি।
খুলনার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও স্থানীয় দৈনিক জন্মভূমি ও সান্ধ্য দৈনিকের সম্পাদক ছিলেন মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক হুমায়ূন কবির বালু।
বিগত ২০০৪ সালের ২৭ জুন দুপুরে নিজ পত্রিকা অফিসে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন তিনি। পরদিন ১০ জনকে আসামি করে খুলনা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।
প্রথম দফায় তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল হলেও অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। এতে আরো একজনকে আসামি করে সম্পূর্ক চার্জশিট দাখিল করা হয়।
আর ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মো. আব্দুস সালাম শিকদার সকল আসামিকে খালাস দেয়। এরজন্য পুলিশের দুর্বল তদন্তকেই দায়ী করছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
আসামীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম মঞ্জুর আহমদ দেশ টিভিকে বলেন, এ মামলার আসামিদের খালাস পাওয়ার ২টা কারণ সেটা হচ্ছে তদন্তের দুর্বলতা আর সাক্ষীর ক্ষেত্রেও দুর্বলতা ছিল।’
এছাড়া, ২০০৯ সালে ২১ এপ্রিল আদালত বিস্ফোরক মামলার অধিকতর তদন্তের আদেশ দিলেও ৫ বছরেও শেষ হয়নি তদন্তকাজ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, ‘তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল, জেলা জজ সন্তুষ্ট হয়ে অধিকতর তদন্তের আদেশ মঞ্জুর করেন।’
এদিকে, আসামিরা খালাস পাওয়ায় ক্ষুব্ধ নিহতের পরিবার। মামলার দ্রুত বিচারের দাবি স্থানীয় সাংবাদিকদের।