খুলনায় গাজী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভাঙচুর ও জরুরি বিভাগের চিকিৎসককে অপহরণের প্রতিবাদের জেলার সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত বুধবার দুপুরে সড়ক দুঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র অমিত রায় গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরে সন্ধ্যায় গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার তার অবস্থার অবনতি হলে ওইদিন রাত ৮টায় ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
পতিমধ্যে তার মৃত্যু হয় –এ খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র ভোর রাতে গাজী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে হামলা চালায় ভাঙচুর করে। ওই্ সময় ডা. বাপ্পাকে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে।
এসব ঘটনায়র প্রতিবাদে বিএমএ, প্রাইভেট প্রাক্টিশনার সমিতি, ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক মালিক সমিতি যৌথ সভা করে শনিবার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টা ক্লিনিক বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্রাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ), বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিসিডিওএ) ডাকে এ কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে।
রোববারের মধ্যে চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালের পাশাপাশি সব সরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শেখ বাহারুল আলম।
এ ব্যাপারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ ফায়েকউজ্জামান বলেন, যেহেতু ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে, সেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
তবে বিষয়টি যথাযথ নিস্পত্তি হওয়া উচিত –আর অসুস্থ রোগীদের কথা বিবেচনা করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখতে তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র অমিত রায় নিহত হওয়ার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আর এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।