খুলনা ও রাজবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবলসহ ৫ জন মাআ গেছেন।
বৃহস্পতিবা ভোর রাতে রূপসা সেতুর ওপর দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন।
এ দুর্ঘটনার পর সেতুর ওপর ট্রাক দুটি আড়াআড়িভাবে আটকে যাওয়ায় খুলনা-মাওয়াসহ ১৮টি রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা লবণচরা থানার এসআই দেবব্রত রায় জানান, ঢাকা থেকে খুলনাগামী মালবোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ১৬-৯৭৭৮) রূপসা সেতু থেকে নামার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি ছোট ট্রাকের (খুলনা মেট্রো ১১-০৩৫৯) সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।
তিনি জানান, এতে ছোট ট্রাকটির চালক কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ট্রাকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রফিক নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহত অপর ট্রাকের চালক জামাল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর সেতুর উভয় দিকে বাস-ট্রাকের প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ট্রাক দুটি সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ তিন জন মারা গেছেন।
রাজবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ হোসেন সরদার জানান, বুধবার মধ্যরাতের পর উপজেলার নিমতলা এলাকায় দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরো চার কনস্টেবলসহ ১৫ জন আহত হন।
নিহত পুলিশ কনস্টেবল রুবেল হোসেনের (৩২) বাড়ি মেহেরপুর জেলার ভাসপুরের কানদেবপুর গ্রামে। দুর্ঘটনার সময় তিনি নিমতলা এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিহত বাসযাত্রীরা হলেন- বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার সোনাপুরা গ্রামের হারুন শেখ (৪৫) ও একই জেলার ধেমা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৪২)।
আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, রাত প্রায় দেড়টার দিকে খুলনা থেকে ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে অন্য একটি বাসে তুলে দেয়ার সময় পেছন থেকে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই দুই বাসযাত্রী নিহত হন। আহত কনস্টেবল রুবেলকে ফরিদপুর হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
ওসি জানান, পুলিশ বাস ও ট্রাকটি আটক করেছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে।