দুই হাজার যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ভোলার দৌলতখানগামী কর্ণফুলী-এক লঞ্চটি অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এদিকে প্রায় তিন ঘণ্টা মাঝনদীতে আটকে থাকার পর অন্য একটি লঞ্চের সহায়তায় ছয় শতাধিক যাত্রী নিয়ে নিরাপদে চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছেছে বিকল হয়ে যাওয়া লঞ্চ 'এমভি মেঘনা রাণী'।
রোববার সকাল ৬টায় ভোলার দৌলতখানগামী কর্ণফুলী-এক লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাট থেকে দৌলতখানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। দ্বিতল ওই লঞ্চটি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ সংলগ্ন মধ্য মেঘনা অতিক্রমকালে তলা ফেটে গিয়ে পানি ওঠতে থাকে। বিপদ আঁচ করতে পেরে চালক দ্রুত লঞ্চটি কালীগঞ্জ ঘাটে নোঙ্গর করেন।
লঞ্চ যাত্রী জানান, অতিরিক্ত যাত্রী এবং তলা ফেটে পানি ওঠায় লঞ্চটির ডুবে যাওয়ার অবস্থা হয়। এ সময় কয়েক জন যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে নদীতে ঝাপ দেয়। পরে জেলেরা তাদের উদ্ধার করেছেন। লঞ্চের চালক বিপদ আঁচ করতে পেরে দ্রুত লঞ্চটি কালীগঞ্জ ঘাটে নোঙ্গর করেন। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় লঞ্চটি।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল দে সাংবাদিকদের বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কর্ণফুলী-১ সদরঘাট ছাড়ার সময় অন্য লঞ্চের সঙ্গে একাধিকবার ধাক্কা লাগে। এতে লঞ্চের সামনের দিকে তলা ফেটে যায়। এ অবস্থায়ই লঞ্চটি গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। মধ্য মেঘনায় লঞ্চটির তলা ফেটে পানি ওঠতে শুরু করলে দ্রুত কালীগঞ্জ ঘাটে নোঙ্গর করায় কোনো বিপদ হয়নি।
ওসি বলেন, ভোলার ইলিশা থেকে আসা কয়েকটি ট্রলারে ভোলার যাত্রীরা গন্তব্যে যাচ্ছেন। তাছাড়া ঢাকা থেকে দৌলতখানগামী ফারহান-৪ লঞ্চটির বিকেল ৪টায় মল্লিকপুর পৌঁছার কথা রয়েছে। ওই লঞ্চে বাকি যাত্রীদের তুলে দেয়া হয়। বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা মো. শহীদুল্লাহ ও নৌপথ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক (দক্ষিণ) মো. শাহজল হোসেন জানান, ভোলার ইলিশা থেকে ট্রলার ও কয়েকটি ছোট লঞ্চ এসে যাত্রীদের নিয়ে যাচ্ছে। কর্ণফুলী-১ লঞ্চটিও ভাসমান অবস্থায় আছে। কোনো যাত্রীরই ক্ষতি হয়নি।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম জানান, ঘটনাস্থল ভোলার ইলিশার কাছাকাছি হওয়ায় সেখান থেকে ট্রলার ও লঞ্চ এসে যাত্রীদের নিরাপদে পৌঁছানো হয়েছে।
এদিকে, প্রায় তিন ঘণ্টা মাঝনদীতে আটকে থাকার পর অন্য একটি লঞ্চের সহায়তায় ছয় শতাধিক যাত্রী নিয়ে নিরাপদে চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছেছে বিকল হয়ে যাওয়া লঞ্চ 'এমভি মেঘনা রাণী'।
লঞ্চের মাস্টার মো. কলিম উল্লাহ জানান, এমভি মেঘনা রানী ঢাকা থেকে সকাল ৮টায় চাঁদপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। লঞ্চটি বেলা ১১টায় চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছানোর কথা ছির। কিন্তু মেঘনা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে চাঁদপুরের চরলগ্নিমারা এলাকা অতিক্রমের সময় লঞ্চটি বিকল হয়ে পড়ে। এতে লঞ্চে থাকা ঈদে ঘরমুখো ছয় শতাধিক যাত্রীকে পড়তে হয় তুমুল ভোগান্তিতে।
কলিম উল্লা আরো জানান, আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ ট্রলারযোগে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যান। পরে দুপুর ২টায় এমভি সুরভী নামের আরেকটি লঞ্চ যাত্রীসহ বিকল লঞ্চটিকে উদ্ধার করে চাঁদপুর ঘাটে নিয়ে যায়।
কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের সাব লেফটেন্যান্ট মো. হাসানুর রহমান বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লঞ্চটি মাঝ নদীতে বিকল হয়ে পড়ে। বিকল হওয়া লঞ্চটি অপর এক লঞ্চের সাহায্যে দুপুর ২টায় চাঁদপুর ঘাটে নিয়ে আসা হয়।