ঈদের দিন আনন্দভ্রমণে গিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বৈরাগীর চরে কমপক্ষে ২২ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় মাঝিসহ ৭ জনকে উদ্ধার করা হলেও বাকিদের এখনও খোঁজ মেলেনি।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তাদের উদ্ধারের জন্য স্থানীয় লোকজন ও জেলেদের সঙ্গে দমকলকর্মীরাও যোগ দেন।
উদ্ধার হওয়া নৌকার মাঝি আশরাফুল ইসলাম সেন্টুসহ ৪ জনকে মুমূর্ষু অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। সেন্টু ছাড়া অন্যরা হলেন- সেলিম, পলি, পপি এবং কাজল।
নিখোঁজদের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার ফারাকপুর ও গঙ্গারামপুর গ্রামে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ছয় শিশুসহ ১১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- রাজশাহী প্যারামেডিক্যাল ইনস্টিটিউটের ছাত্রী বিভা (২২), শিপন (২৬), শাহাজুল (২৮), স্বপন (২০), কেয়ামনি (১০), জামাল (২৬) ও তার স্ত্রী সুমি (২০), বিথী (১০), তিন্নি (৭), সন্ধ্যা (৪) এবং সুবর্ণা (৬)।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে আমাদের জানান, ঈদ উপলক্ষে আনন্দভ্রমণের উদ্দেশে ইঞ্জিনচালিত একটি ছোট নৌকায় বৈরাগীর চর ঘাট থেকে নদীর মধ্যবর্তী একটি চরে যাচ্ছিলেন তারা। কিছু দূর যাওয়ার পর প্রবল ঢেউয়ের মুখে নৌকাটি উল্টে যায়। এ সময় স্থানীয়রা নৌকার মাঝিসহ ৫ জনকে উদ্ধার করে।
দুঘর্টনার খবর পেয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনের সাংসদ রেজাউল হক চৌধুরী, জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রেজাসহ দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
জেলা প্রশাসক জানান, খুলনা থেকে ডুবুরিদের আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
নিখোঁজদের উদ্ধারে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয়রা জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।