ঝিনাইদহের বারোবাজারে শুক্রবার ভোরে রেলক্রসিংয়ে বরযাত্রী বহণকারী বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১১ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭০ জন। ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম দেশ টিভিকে বলেন, এ ঘটনার পর ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্তকমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট আব্দুল হান্নানের উদ্ধৃতি দিয়ে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, রাত ৩টার দিকে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বারোবাজার স্টেশন পার হওয়ার সময় বারোবাজার রেলক্রসিংয়ে একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে যায়। এ সময় আশপাশে ছিটকে পড়তে থাকেন বাসযাত্রীরা। প্রায় দেড় কিলোমিটার পার হয়ে ট্রেনটি থেমে যায়।
আহত বাসযাত্রীরা দেশ টিভিকে জানিয়েছেন, তারা ঝিনাইদহের শৈলকুপার ফুলহরি গ্রাম থেকে সনাতন ধর্মের একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে বরযাত্রী হিসেবে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সাঁকো গ্রামে যান। বাসটিতে ৭০ থেকে ৯০ জন বরযাত্রী ছিলেন। ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনা পড়েন।
বর- কনে আলাদা মাইক্রোবাসে থাকায় তারা বেঁচে গেছেন।
আহত ৩০ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিদের ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যশোরে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বারোবাজার হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই(উপপরিদর্শক) আকিমুর রহমান জানিয়েছেন, তারা এখন পর্যন্ত ১০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন।
বাসটিকে ট্রেন লাইন থেকে সরানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে কমপক্ষে ৫০ জনকে। তাদের কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ, যশোর ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।