মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া লঞ্চে সন্ধান না পাওয়া গেলেও ভোলা, চাঁদপুর ও শরীয়তপুরে বেশ কয়েক জনের মরদেহ ভেসে উঠেছে। এ পর্যন্ত ডুবে যাওয়া লঞ্চের ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত সোমবার সকালে এম.এল. পিনাক-৬ লঞ্চটি ডুবে যাওয়া। বিআইডব্লিউটিএ, নৌবাহিনী ও দমকল বাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজসহ ১৫টি নৌযান একসঙ্গে লঞ্চটি শনাক্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, বুধবার সকালে ভোলার রামদাসপুর, কাঠিরমাথা ও ইলিশা ইউনিয়নে মেঘনায় ভেসে উঠা ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এছাড়া, শরীয়তপুরের সুরেশ্বর ও চাঁদপুরের নেয়ারবাজার ও বাংলাবাজারে মেঘনায় ৩টি মরদেহ ভেসে উঠেছে। মরদেহগুলো ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রী বলে ধারনা করা হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলার হাইমচরে মেঘনার মাঝেরচরে একজন নারী এবং বাংলাবাজার থেকে এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে হাইমচর থানা পুলিশ।
এদিকে, বেলা ২টার দিকে সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বরে মেঘনায় আরেক যুবকের মরদেহ ভেসে উঠেছে।
পুলিশ সুপার মো. আমির জাফর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাইমচরের মাঝেরচরে সকালে ভাসে উঠেছে বোরকা পরিহত এক নারীর মরদেহ। আর বাংলাবাজারের কাছে ২০/২১ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। মরদেহদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, রাজরাজেশ্বরেও আরেকটি মরদেহ খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছে। মরদেহগুলো ডুবে যাওয়া লঞ্চের বলে অনুমান করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও এখনো সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ হওয়া যাত্রীদে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। প্রচণ্ড স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ে যাত্রীদের মরদেহগুলো ভেসে যাওয়ার আশংকা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
দমকল বাহিনী, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধার কর্মীরা বিভিন্ন কৌশলে দফাদফায় অভিযান চালালেও এখনো পর্যন্ত কোনো সাফল্য আসেনি। সহযোগিতা করছে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও।
এছাড়া, উদ্ধারকারী জাহাজ রোস্তমের নেতৃত্বে ১৫টি নৌযান নিয়ে লঞ্চটির অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি। উদ্ধার কাজে অংশ নিতে সকালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রওনা হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ কাণ্ডারি-২।
সোমবার সকালে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া যাওয়ার পথে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায় এম.এল. পিনাক-৬ নামের লঞ্চটি।