পদ্মায় লঞ্চডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভোলা, চাঁদপুর, শরীয়তপুর ও বরিশালে পদ্মা-মেঘনা থেকে মোট ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে জাহাজ কাণ্ডারী-২ এর হাইড্রোগ্রাফিক দল। কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ, নৌবাহিনী ও দমকল বাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজসহ ১৫টি নৌযানও।
এরমধ্যে ১১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো শতাধিক নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার চারদিনেও পিনাক-৬ লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি।
বিআইডব্লিউটিএ, নৌবাহিনী ও দমকল বাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজসহ ১৫টি নৌযান একসঙ্গে লঞ্চটির হদিসের অভিযানে অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ কাণ্ডারি-২ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। বিভিন্ন কৌশলে দফায় দফায় অভিযান চালালেও এখনো পর্যন্ত হদিস পাওয়া যায়নি লঞ্চটির।
পদ্মার ২০ কিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারও উদ্ধার তৎপর রয়েছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। প্রচণ্ড স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ে যাত্রীদের মৃতদেহগুলো ভেসে যাওয়ার আশংকা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে, সময় যতো গড়াচ্ছে ততোই হতাশ হয়ে পড়ছেন ডুবে যাওয়া লঞ্চের নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা। কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে পদ্মা পাড়ের পরিবেশ। জীবিত না হোক মরদেহটি ফিরে পেতে দিনরাত অপেক্ষা তাদের। ঘটনার চতুর্থ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও লঞ্চের খোঁজ না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষুদ্ধ।
এদিকে, প্রচণ্ড স্রোত আর বৈরি আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধার অভিযানে থাকা নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন-নজরুল ইসলাম।
নতুন করে আরো ৫ কিলোমিটারে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া যাওয়ার পথে দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে পদ্মায় ডুবে যায় এম.এল. পিনাক-৬ নামের লঞ্চটি।