বেশকিছু দিন পার হলেও মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটের কাছে ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ এর আজও (শুক্রবার) খোঁজ মেলেনি।
লঞ্চে থাকা এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও শনাক্ত না হওয়া ১২ জনের মৃতদেহ মাদারীপুরের শিবচর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার বেলা ২টার দিকে শিবচরের পাচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে মরদেহগুলো পৌর কবরস্থানে নিয়ে আসা হয়। মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানাজায় অংশ নেন।
পরবর্তী সময় শনাক্ত করার জন্য ওই ১২ মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।
পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ঘটনায় শুক্রবার আরও ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পাঁচ দিনে এ পর্যন্ত মোট ৪০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লঞ্চের খোঁজ এখনো মেলেনি।
উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে ভোলা থেকে ১০, শরীয়তপুরে ৮, বরিশালে ১১, চাঁদপুরে ৫, লক্ষ্মীপুরে ১, মাদারীপুরে ১ ও ঘটনাস্থল মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
লৌহজং উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বরিশাল থেকে তিনটি ও আজ শুক্রবার তিনটি এবং মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়।
মাওয়ায় স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের পুলিশ পরিদর্শক মজিবুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত ২৩ জনের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ১২ জনকে দাফন করা হয়েছে। আর দুজনের লাশ শিবচরের পাচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে। আরও তিনজনের লাশ মাওয়া ঘাটে নিয়ে আসা হয়েছে।
লঞ্চডুবির পর থেকে নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল, কোস্টগার্ড, ফায়ার ব্রিগেড, অনুসন্ধানী জাহাজ কান্ডারি-২ এবং সাইটস্ক্যান ‘সোনার’ ব্যবহার করে তিস্তা, সন্ধানী, আইটি ৯৭ ও ব-দ্বীপ নামে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধান জাহাজ আজ সকাল থেকে ‘পিনাক-৬’-এর অনুসন্ধান করছে।
নৌবাহিনীর সদরদপ্তরের উপপরিচালক কমান্ডার হাবিবুল আলম বাসসকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অনুসন্ধান করার পর এখন নতুন করে অভিযান চালাচ্ছেন তারা। ঘটনাস্থলে জরিপ-১০ পৌঁছানোর ফলে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে।
নৌবাহিনীর এই কর্মকর্তা জানান, লঞ্চটি শনাক্ত করার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
লঞ্চডুবির পর থেকেই পদ্মার উভয়পাড়েই স্বজনহারা মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ ও দীর্ঘ পাঁচ দিনের অপেক্ষায় এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান জানিয়েছেন, লঞ্চ উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তাদের তালিকায় এখন পর্যন্ত ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার জানান, দুর্ঘটনাস্থলে প্রবল স্রোত এবং পানির গভীরতা প্রায় ৮০-৯০ ফুট। ঘূর্ণিস্রোতের কারণে সেখানে গর্ত সৃষ্টি ও বালু জমা হচ্ছে। তাই লঞ্চটি স্রোতে দূরে সরে বালুর নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তাই শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।