নৌ দুর্ঘটনা রোধে সরকার এখন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে— লঞ্চমালিকদের কাছে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে লঞ্চমালিকদের কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না সরকার বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
শনিবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের দরবার হলে এমভি শাতিল-১ লঞ্চডুবির ঘটনায় নিহত ১৬ যাত্রীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। গত ৩ মে গলাচিপার কলাগাছিয়া নদীতে লঞ্চটি ডুবে যায়।
শাজাহান খান বলেন, নৌপথে চলাচলের অনুমতির শর্ত অমান্য করে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া অদক্ষ চালক দিয়ে লঞ্চ চালানোর কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে নৌপথে সিন্ডিকেট করে লঞ্চ চলাচলে রোটেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল। এ কারণে লঞ্চ দুর্ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার লঞ্চ দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে তদন্ত প্রতিবেদনে অতিরিক্ত যাত্রী ও চালকের অদক্ষতার কথা বলা হয়েছে। লঞ্চমালিকদের খামখেয়ালি আর মেনে নেওয়া হবে না।
শাজাহান খান বলেন, মাওয়ায় লঞ্চডুবির ঘটনায় একটি মহল তার পদত্যাগ চেয়েছিল। কোনো মহলের কাছে মাথা নত না করে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ এবং হতাহতদের উদ্ধারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের গাফিলতি করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার বলেন, তাদের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে নৌ-দুর্ঘটনা আগের চেয়ে কমে এসেছে। তবে লঞ্চমালিক, চালক ও যাত্রীরা সচেতন হলে লঞ্চ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।