সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হারবারিয়া চরের ঠোটা এলাকায় সোমবার ভোরে র্যা বের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বনদস্যু ‘নাসির বাহিনীর’ প্রধান নিহত হয়েছেন।
র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যা ব) এর দাবি বনদস্যু ‘নাসির বাহিনীর’ প্রধান সে।
নিহত ব্যক্তির নাম নাসির ওরফে রাসেল (২৯)। প্রাথমিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেনি র্যা ব। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ভোজপাতিয়া গ্রামে।
ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করার দাবি করেছে র্যা ব। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে তিনটি রাইফেল, একটি দোনলা বন্দুক, দুটি একনলা বন্দুক, ১৩৩টি বন্দুকের কার্তুজ, ৩৬টি রাইফেলের গুলি ও পাঁচটি ধারালো অস্ত্র।
র্যা ব-৮-এর উপ-অধিনায়ক ও অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া মেজর আদনান কবির বলেন, সুন্দরবনে নিয়মিত টহল চলছিল। ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হারবারিয়া চর এলাকায় বনদস্যু নাসির বাহিনীর ৮-১০ জনের একটি দল র্যা বের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। র্যা বও পাল্টা জবাব দেয়। গোলাগুলির একপর্যায়ে বনদস্যুরা হারবারিয়া চরের ঠোটা এলাকায় বনের ভেতরে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে তারা গুলি ছুড়তে থাকে। প্রায় ১৫ মিনিট বন্দুকযুদ্ধের পর বনদস্যুরা পিছু হটে বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। র্যা ব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় জেলেরা নিহত ব্যক্তিকে বনদস্যু ‘নাসির বাহিনীর’ প্রধান নাসির ওরফে রাসেল বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করে র্যা ব।
মেজর আদনান বলেন, নাসিরের বিরুদ্ধে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলেদের অপহরণ, চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
নাসিরের বিরুদ্ধে মংলা ও রামপাল থানায় একাধিক হত্যা ও ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে জানায় র্যা ব।
নাসিরের মরদেহ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্র বাগেরহাটের মংলা থানায় হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে র্যা ব। এ বিষয়ে র্যা বের পক্ষ থেকে মংলা থানায় দুটি মামলা করা হবে।
মংলা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মানজুর এলাহী বলেন, নাসিরের মরদেহ, অস্ত্র ও গুলি আনার জন্য মংলা থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে।