সারাদেশে সোমবার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
কুড়িগ্রাম:
সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আবারো ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সামান্য হ্রাস পেয়েছে তিস্তার পানি। এতে বানভাসীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
গত ১১দিন ধরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর পার্বতীপুর, ভগবতিপুর, কালির আলগা, চর রসুলপুরসহ ৯ উপজেলার ৫০ ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচর পানিতে তলিয়ে আছে। পানিবন্দি জীবন যাপন করছেন প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষজন। সরকারিভাবে সামান্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও দুর্গত এলাকার অধিকাংশ মানুষের ভাগ্যে তা জুটছে না। তার উপর দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।
সরকারিভাবে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র না খোলায় বানভাসী পরিবারগুলো উচু বাধ, বাঁশের মাচায় আশ্রয় নিয়ে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
অন্যদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও শবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নুন খাওয়া পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রহ্মপুত্রের পানি। অন্যদিকে সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ১২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে পদ্মার ভাগ্যকুল পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার ধান ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আরও কয়েক দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন বলে জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটের পাশাপাশি পানিবাহিত নানা রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ না পৌঁছানোয় বানভাসিদের কষ্ট এখনো লাঘব হয়নি।
এদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বন্যার পানি উঠায় এবং বন্যাকবলিত মানুষ এসব স্থানে আশ্রয় নেয়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
এ বন্যার পানিতে ডুবে রোববার বিকেলে চৌহালী উপজেলার ঘৌড়জান ইউপির মুরাদপুর গ্রামের সালাম ফকিরের পুত্র নাহিদ (৩) মারা গেছে।