দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ৯টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জামালপুর, শেরপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও পানীয় জলের জন্য হাহাকার বানভাসী মানুষের। অনেক দুর্গত এলাকায় এখনো সরকারি ক্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। ত্রাণ দেয়া হলেও তা খুবই অপ্রতুল বলে অভিযোগ দুর্গতদের।
এদিকে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মসহ রাজধানীর আশেপাশের নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এছাড়া, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বগুড়ার সাড়িয়াকান্দিতে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ২০টি গ্রাম। এ নিয়ে পানিবন্দি রয়েছে উপজেলা ১০২ গ্রামের মানুষ। নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে গাবতলী উপজেলার নিম্নাঞ্চল। বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে যমুনার পানি।
সাদারবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে জামালপুর শহরের নাওভাঙা চর, কালিবাড়ির চর, মোহডাঙা, সোনাগাথাসহ ১০টি গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে আছে ৭ উপজেলার ২ লাখ মানুষ। ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরা পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা।
ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে শেরপুরের পোড়ার দোকার এলাকায় ডাইভারসনে পানি উঠেছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সদর উপজেলার চর মুছারিয়া, কামারের চর ও চরপক্ষীমারী ইউনিয়েনর বিভিন্ন গ্রাম।
পদ্মার পানি বেড়ে মুন্সীগঞ্জে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী ২০ হাজার মানুষ। ভাগ্যকুল পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে পদ্মা। পদ্মার পানি বেড়ে মাদারীপুরের শিবচরে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে আরো ৫টি ইউনিয়ন। চরজানাজাতসহ আশেপাশের এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতির অপরিবর্তিত রয়েছে সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে।
বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে পানি বাহিত রোগের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাবার ও সুপেয় পানির অভাব। স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ত্রাণ প্রদান অব্যাহত থাকলেও তা খুবই অপর্যাপ্ত।
আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মসহ রাজধানীর আশেপাশের নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।