টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নতুন করে ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রসহ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে কুড়িগ্রাম ও নেত্রকোনার বেশ কয়েকটি গ্রাম। এতে বেশ কয়েক জায়গায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। পানীয় জল ও খাদ্যের সংকট দেখা দেয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, নেত্রকোনায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বারহাট্টা উপজেলা ও নেত্রকোনার ২টি ইউনিয়ন। পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া বেড়ি বাঁধ ভেঙে ৭০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। এছাড়াও ছড়িয়ে পড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগ।
নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর পানিও বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই পানির তোড়ে নেত্রকোনার বাহাদুরকান্দা সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে নেত্রকোনা-কমলাকান্দা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড পক্ষ থেকে জানা গেছে, সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, কুড়িগ্রামেও অব্যাহত রয়েছে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে জেলার উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
তলিয়ে গেছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর রোপা আমনের ক্ষেত।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার, নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৫ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টের ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।