টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম ও নওগাঁর বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এসব জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নেত্রকোনায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে ৩ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন। পানিবন্দি হয়ে মানবেতর দিন কাটছেন দুর্গতরা।
নওগাঁর আত্রাই নদীর মির্জাপুর পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় নওগাঁ, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে। উন্নতি হবে নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতি।
এদিকে, বন্যাদুর্গত এলাকায় খাদ্য ও পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে।
ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নেত্রকোনা সদর, মদন ও মোহনগঞ্জ উপজেলার আরও ১০টি ইউনিয়ন নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এ নিয়ে জেলার ৬ উপজেলার মোট ২৯টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যায় প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকার প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর রোপা আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে পুকুর ও মাছের ঘের।
সোমেশ্বরী ও কংশ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাহাদুরকান্দা সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে নেত্রকোনা-কলমাকান্দা সড়কে যানবাহন চলাচল।
এদিকে, অপরিবর্তিত রয়েছে কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি সামান্য হ্রাস পেলেও উজান থেকে নেমে আসা জিঞ্জিরাম নদীর পানি বেড়ে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার চর ও নিম্নাঞ্চলের দেড় শতাধিক ঘর-বাড়ি তলিয়ে গেছে।
পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৪ সেন্টিমিটার, নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৬ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টের ২২ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছ।
এদিকে, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে নওগাঁর আত্রাই নদীতে। এখানে মান্দা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ও যমুনার পানি ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তোড়ে আত্রাই নদীর মির্জাপুর পয়েন্টে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩০ মিটার ভেঙে গেছে।