অপসারিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরার দায়-দায়িত্ব সরকার নিবে না বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ঢাকা-টাঙ্গইলের কালিহাতীতে প্যাংলী নদীর উপর নবনির্মিত সেতু উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রী পরিষদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তার জবাব যথাযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য না হলে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদও থাকবে না লতিফ সিদ্দিকীর।
গতকাল-বুধবার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে করা মামলায় অপসারিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
গত ২ অক্টোবর হজ নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগে ঢাকা বারের আইনজীবী শাহ আলম লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।
গত রোববার লতিফ সিদ্দিকীকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তিনি পদত্যাগ না করায় সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেন। ওই রাতেই দল থেকেও তাকে বাদ দেয়া হয়।
ওই দিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের দফা অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ওই অনুচ্ছেদের -১ এর 'গ' উপদফা অনুসারে লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি। এরই ভিত্তিতে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, লতিফ সিদ্দিকীর নিয়োগের অবসান হওয়ায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে চলে যাবে। এ বিষয়ে নতুন করে আর প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে স্থানীয় টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামাতে ইসলামীরও বিরোধী।’ তার মতে, এতে শ্রমশক্তির অপচয় হয়, উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় ও টক শোর আলোচকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
এ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ, গণমিছিল ও মানববন্ধন করে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। মামলা হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়। আদালত সমনও জারি করে। ফলে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সরকার।