নাটোরের বড়াইগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত গুরুদাসপুরের সিধুলী গ্রামের ১২ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় কবরস্থানের তাদের দাফন কর হয় বলে জানা গেছে।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিহতদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় একসঙ্গে গ্রামের ১২ জনের মৃত্যুতে কাঁদছে পুরো সিধুলী। এদের মধ্যে একই পরিবারের রয়েছে ছয় জন। গুরুতর আহত রয়েছেন এ পরিবারের আরও দুই জন।
দুর্ঘটনার পর গ্রামের ৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার ২৮ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের বনপাড়া-হাটিকুমরুল অংশে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩৩ জন মারা যান। দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান ২৩ জন। হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান আরো ১০ জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী।
রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিহতদের পরিবাগুলোকে ১ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা জানিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা থেকে নাটোরের বড়াইগ্রাম হয়ে রাজশাহী যাচ্ছিল কেয়া পরিবহনের একটি বাস। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজ্জাকের মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা অথৈ পরিবহনের আরেকটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুমড়ে মুচড়ে যায় বাস দুটি। বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কের যান চলাচল।
দমকল বাহিনীর কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান স্বজনরা। প্রিয়জনের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েন কান্নায়।
গতকালই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন।