আলবদর কমান্ডার ও জামাত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকায় আনন্দিত ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ। তারা মনে করেন এ রায়ে এ অঞ্চলের মানুষ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও টাঙ্গাইলে বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ আর নির্যাতন চালায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামান।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় কামারুজ্জামান জামাতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রসংঘের ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি ছিলেন। সে বছর ২২ এপ্রিল কামারুজ্জামান জামালপুরে আশেক-মাহমুদ কলেজের ইসলামী ছাত্রসংঘের বাছাই করা নেতাকর্মীদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গড়ে তোলেন। তার তৈরি এ বাহিনীই পরবর্তীতে ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও টাঙ্গাইল জুড়ে মানবতাবিরোধী অসংখ্য অপরাধ ঘটায়।
শেরপুর সদরের নয়আনী বাজারের সুরেন্দ্র মোহনের বাড়িটি দখল করে যুদ্ধের সময় নির্যাতনকেন্দ্র গড়ে তোলেন আলবদর কমান্ডার কামারুজ্জামান। নিরীহ মানুষকে ধরে এনে এ বাড়িতেই নির্যাতন চালাতেন কামারুজ্জামান ও তার দলবল।
শেরপুর শহরের সেই সেরি ব্রিজটিও কামারুজ্জামানের নানা অপকর্মের সাক্ষী। টর্চার সেলে নির্যাতনের পর বহু মানুষকে ব্রিজের নিচে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করতো পাকিস্তানি বাহিনী। এতে সহায়তা করতেন কামারুজ্জামান। এসব অপকর্মের স্বাক্ষ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্যাতনের শিকার হওয়া অনেকেই।
নালিতাবাড়ির সোহাগপুরের বধ্যভূমিতে একসঙ্গে ১২০ জনকে হত্যা করে গণকবর দেয় পাকিস্তানি হানাদাররা। কামারুজ্জামানের আলবদর বাহিনীর সহায়তায় চালানো হয় এ মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞ। সূর্যদী, আহম্মদনগরসহ শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় তার নির্দেশে চলতো নানামুখী নির্যাতন।