নরসিংদীর সদর উপজেলার ভাটপাড়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বুধবার হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জহির হায়াত, চ্যানেল নাইনের সাংবাদিক আইয়ুব খাঁন সরকার, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের ক্যামেরাম্যান লক্ষণ বর্মণ, সময় টিভির ক্যামেরাম্যান কাউসার হোসেন ও পুলিশ, আনসার, তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় হামলাকারীরা এলোপাথারি মারপিট ও আনসারদের পুকুরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ওই সময় হামলাকারীরা চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর, দেশ টিভি, চ্যানেল নাইন ও সময় টিভির ক্যামেরা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
আহতদের মধ্যে ৩ সংবাদকর্মীকে আশংকাজনক অবস্থায় নরসিংদী জেলা হাসপাতাল থেকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘোড়াশাল পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির মোল্লা ও জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজিব হোসেনের নেতৃত্বে সদর উপজেলার আসমানীচর গ্রামে প্রায় ১ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে।
সকালে তিতাস গ্যাসের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। অভিযানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেয়। ওই সময় তিতাসের মূল সরবরাহ লাইন থেকে অবৈধভাবে নেয়া দুই ইঞ্চি সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা মনিরের নেতৃত্বে একদল লোক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারীদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা এলোপাথারি মারপিট ও আনসারদের পুকুরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে হতাহতের পাশাপাশি আবুল কালাম নামে এক আনসার সদস্য নিখোঁজের পর তাকে ও লুটকৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইব্রাহিম ও নুরুজ্জামান নামে দুই ব্যাক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
খবর পেয়ে আহত সাংবাদিকদের দেখতে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসন মোর্শেদ জামান। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।