উপকূলবাসীর জন্য বিভীষিকাময় দিন ১২ নভেম্বর, ১৯৭০ সালের এ দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো উপকূল। ৪৪ বছর পরেও অনেকেই তাদের হারানো স্বজনের কথা মনে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ভিজে ওঠে চোখের পাতা, ডুকরে কাঁদেন অনেকে।
বর্তমানে সেখানে উপকূলবাসীর জন্য সাইক্লোন সেন্টার নির্মান করা হয়েছে, তবে উপকূলবাসীর আতংক আজো কমেনি।
১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভোলাসহ উপকূলীয় ১৮ জেলায় হঠাৎ হানা দেয় ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো জনপদ। কেড়ে নেয় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের প্রাণ। বেড়িবাঁধ, জলাভূমি, জঙ্গলসহ বিভিন্ন প্রান্তে শুধু মানুষের মরদেহ। দীর্ঘ ৬ মাস উপকূলের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে থাকে স্বজনহারাদের কান্নায়।
তখন তথ্য প্রযুক্তি ছিল অনেকটাই দুর্বল তাই ঝড়ের পূর্বাভাস পাননি উপকূলের অনেক মানুষ। ৮ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছাস থেকে বাঁচতে কেউ গাছের ডালে, কেউবা উঁচু ছাদে আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচায়।
উপদ্রুত জনপদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল ভোলার। লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়, জেলার এক তৃতীয়াংশ। ঝড়ের পরে অনেককে গভীর সমুদ্র থেকে অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাণ হারান প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
৭০-এর ঘূর্ণিঝড়, এরপর সিডর এবং আইলার পরও এখনো উপকূলবাসীর জন্য নির্মাণ করা হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন সেন্টার। এখনো নিরাপদ নয় মানুষ। সঠিকভাবে ঝড়ের পূর্বাভাস পৌঁছানো যাচ্ছে না এখনো।