যুদ্ধাপরাধীদের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে আর তাদের মন্ত্রীর পদে বসানোর দায়ে জনগণের আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার হবে –এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার বিকেল তিনি হবিগঞ্জ নিউফিল্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় এ কথা বলেন।
জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি- যখন ক্ষমতায় আসে তখন জনগণ অশান্তিতে থাকে আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকে।
বিএনপির ২ গুণ সন্ত্রাস আর মানুষ খনু করা—এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি- জামাতের রাজনীতি হচ্ছে গ্রেনেড হামলার রাজনীতি।
শেখ হাসিনা বলেন, 'বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে উন্নয়ন করে না, তারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা করে ও দেশের জনগণের টাকা বিদেশে পাচার করে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আওয়ামী লীগ মানে উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ। আওয়ামী মানুষের কল্যাণে বিশ্বাস করে।'
হবিগঞ্জবাসীর উদ্দেশ্য শেখ হাসিনা বলেন, এরইমধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএম কিবরিয়া হত্যার চার্জশিট দেয়া হয়েছে এর বিচার কাজও সম্পূর্ণ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশ্রয়হীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে, চিকিৎসা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে, বেকারত্ব ঘুচিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে দুটিসহ মোট চারটি প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি আরও চারটির ভিত্তিস্থাপন করেন তিনি।
এ সময় আগামী ডিসেম্বরে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নতুন এ গ্যাস ফিল্ড থেকে তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে মার্কিন মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শেভরণের তত্ত্বাবধানে বিবিয়ানা এ গ্যাসক্ষেত্রে খনন করা হয়েছে ১৪টি কূপ।
শনিবার সকাল ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে তিনি সেখানে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গ্যাসক্ষেত্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবিগঞ্জ জেলা সদরে যান। সেখানে তিনি হবিগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম ও নার্সিং ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করেন।
পরে শেখ হাসিনা হবিগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালসহ ২৩টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং বিবিয়ানা-ধনুয়া গ্যাস পাইপলাইন উদ্বোধন ছাড়াও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে বিবিয়ানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত সংযোগ সড়ক এবং নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বিবিয়ানা দক্ষিণ ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিবিয়ানা-৩ ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্ন্দ্রের ভিত্তিস্থাপন করেন এবং বিবিয়ানা-২ ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
বিবিয়ানার অনুষ্ঠানে নবীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ভিত্তিস্থাপনও করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তার জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে হবিগঞ্জে চারিদিকে সাজসাজ রব পড়ে গেছে। শহর ও গ্রামে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে অসংখ্য তোরণ স্থাপন ও ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।
শেভরন পরিচালিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস ক্ষেত্র বিবিয়ানা থেকে বর্তমানে প্রতিদিনি ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। শেভরন জালালাবাদ ও মৌলভীবাজারেও গ্যাস তুলছে।
কোম্পানিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিবিয়ানার সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হবে। এর ফলে শেভরন পরিচালিত তিনটি ক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হলেও চাহিদা আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি।