সুন্দরবনের শেলা নদীতে ট্যাংকার ডুবে সাড়ে তিন লাখ লিটার জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দুই জাহাজ মালিকের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে বনবিভাগ।
এদিকে, এ ঘটনায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বুধবার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
সকালে সুন্দরবনের শেলা নদীতে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকার উদ্ধারের জন্য বরিশাল থেকে একটি উদ্ধারকারী জাহাজ রওয়ানা দিয়েছে। নদী থেকে তেল অপসারণের জন্য চট্টগ্রাম থেকে রওয়ানা দিয়েছে আরেকটি জাহাজ। দুপুরের পর উদ্ধার কাজ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে কুয়াশার কারণে জাহাজ দুটির ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগছে বলে জানান মন্ত্রী।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক বেলায়েত হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে।
এদিকে, ডুবে যাওয়া ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামের ট্যাংকারটি উদ্ধারে বেসরকারি তিনটি জাহাজ নিয়ে কাজ শুরু করেছে এর মালিক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারুন অ্যান্ড কোং।
আপাতত দুটি জাহাজ দুই দিক থেকে সাউদার্ন স্টার-৭ কে আটকে রেখেছে, যাতে সেটি পুরোপুরি তলিয়ে না যায়। ট্যাংকারটির সামনের অংশ নদীতে ডুবে আছে। পেছনের অংশ রয়েছে পানির ওপরে।
নৌবাহিনীর জাহাজে ডুবুরি থাকলেও তেল সরানোর মতো আধুনিক সরঞ্জাম নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা অঞ্চলের কমান্ডার মনীর মল্লিক জানান, তারা সনাতন পদ্ধতিতে বাঁশ ও কলাগাছ ব্যবহার করে পানির উপরিতলের তেল আলাদা করে সরানোর চেষ্টা করবেন।
জাহাজটির মাস্টার মোখলেসের কোনো খোঁজ বুধবার সকাল পর্যন্ত পাননি উদ্ধার অভিযানে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্যরা।
ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামের ট্যাংকারটি গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে ‘টোটাল’নামে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় সাউদার্ন স্টারের একপাশের খোল ফেটে যায় এবং সেটি ডুবতে শুরু করে।
ট্যাংকারটির প্রায় সব ফার্নেস অয়েল বেরিয়ে মঙ্গলবারই সুন্দরবনের শেলা নদীর কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বন কর্মকর্তারা জানান।
গত মঙ্গলবার ভোরে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে টোটাল নামের এক জাহাজের ধাক্কায় তেলবাহী ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার ৭ ডুবে যায়।