সুন্দরবনে শেলা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কার থেকে শনিবার শতাধিক নৌকা নিয়ে নিঃসৃত তেল অপসারণের কাজ শুরু করেছে বনবিভাগ।
সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া 'সাউদার্ন স্টার-৭' ট্যাঙ্কারের ক্ষতিকর ফার্নেস অয়েল অপসারণে কাজ করছেন ২০০ গ্রামবাসী বলে জানা গেছে। এ কাজে তাদের মজুরি দেবে বনবিভাগ।
এর আগে শুক্রবার সকাল থেকেই স্থানীয়রা তেল সংগ্রহ করা শুরু করেন।
সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, তেল অপসারণের জন্য গ্রামবাসীকে মজুরি দেয়া হবে এবং এ তেল অপসারণ করে পদ্মা ওয়েল কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে পারবেন তারা। তেল পুরোপুরি অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এ কাজ চলবে।
এদিকে, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বন বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ৯ সদসের তদন্ত কমিটি সুন্দরবনের শেলা নদী পরিদর্শন করেছেন।
কমিটির প্রধান বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) মো. নুরুল করিম জানান, গবেষণা করে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। ১৮ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গতকাল নদীতে ছড়িয়ে পড়া তেলের ক্ষতিকর প্রভাব রোধে রাসায়নিক ছিটানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় বন বিভাগের আপত্তিতে তা স্থগিত করা হয়। ডিসপার্সেল কেমিক্যাল বুয়েটে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকর ফার্নেস অয়েল অপসারণে কেমিক্যাল ছিটানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানা গেছে।
গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য খুলনার পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাওয়ার সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে 'টোটাল' নামে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় 'সাউদার্ন স্টার-৭' নামের ট্যাংকারটির একপাশের খোল ফেটে যায় এবং সেটি ডুবতে শুরু করে।
ট্যাংকারটির প্রায় সব ফার্নেস অয়েল বেরিয়ে মঙ্গলবারই সুন্দরবনের শেলা নদীর কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে জয়মনির ঘোল এলাকায় সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। তার আগে ১২ সেপ্টেম্বর পশুর চ্যানেলের হাড়বাড়িয়া এলাকায়ও ক্লিংকারবাহী একটি কার্গো ডুবে যায়। ওই জাহাজ দুটি এখনও ওঠানো সম্ভব হয়নি।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ট্যাংকার ডুবে সুন্দরবনের নদী ও খালে তেল ছড়িয়ে যাওয়ার ৩ দিন পর শুরু হয়েছে তেল অপসারণের কাজ। বন বিভাগের সহায়তায় স্থানীয় বনজীবী ও এলাকাবাসী এ কাজ শুরু করেন। নৌকায় চড়ে নদী ও খাল থেকে জাল ও কাপড়ের মাধ্যমে তেল সংগ্রহ করছেন তারা।
রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানির ঠিকাদার তাদের কাছ থেকে এ তেল কিনে নিচ্ছে। আর তেল সরানোর পুরো কাজ তদারকি করছে বনবিভাগ, বিআইডাব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড নৌপুলিশ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
তেল যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় বনরক্ষীরা বুধবার থেকেই দুর্ঘটনাস্থলের কাছে শেলা নদীর খালগুলোর মুখ জাল দিয়ে আটকে দেয়। আর পাম্পিং এর মাধ্যমে উদ্ধার করা জাহাজ থেকে পানি সরানো হচ্ছে।
এদিকে, তেলের ক্ষতিকর প্রভাব কাটানোর জন্য কাণ্ডারি-১০ জাহাজটিকে দশ হাজার লিটার রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে ঘটনাস্থলে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সকাল থেকে কাণ্ডারি-১০ জাহাজে রাসায়নিক দ্রব্যগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্রে এসব রাসায়নিক দ্রব্য কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে কি-না, তাও খতিয়ে দেখছেন তারা।