সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ট্যাংকারের ফার্নেস তেল অপসারণ অব্যাহত রয়েছে। সোমবারও ১০০টি নৌকা নিয়ে ২০০ শ্রমিক গাছের পাতা, কচুরি পানা এবং নদীতে ভাসমান বর্জ্যে লেগে থাকা তেল সংগ্রহ করছেন। এ পর্যন্ত ৪২ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এম ভি টোটাল নামের একটি তেলবাহী জাহাজের ৪ শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ দেশ টিভিকে জানিয়েছেন, রোববার গভীর রাতে বাগেরহাট থানা পুলিশ নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা পুলিশের সহায়তায় শীতলক্ষ্যা নদীতে অভিযান চালায়। তারা নদীর লক্ষ্মনখোলা এলাকা থেকে এমভি টোলাল জাহাজটিকে আটক করে। এসময় শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারটি ধাক্কা দেয়ার সঙ্গে জড়িত থাকায় আটক জাহাজের মাস্টার ও সহকারি মাস্টারসহ ৪ কর্মচারিকে আটক করে পুলিশ। আটক জাহাজটিকে শীতলক্ষ্যা নদীর সোনাকান্দা ডকইয়ার্ডে এনে রাখা হয়েছে।
এছাড়া, শ্যালা নদীসহ আশপাশের নদী ও খালের পানিতে পর্যাপ্ত পরিমান অক্সিজেন রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দুর্ঘটনার ৭দিন পর সকাল থেকে শ্যালা নদী ও আশপাশের খাল থেকে মাছ ধরতে শুরু করেছেন স্থানীয় জেলেরা।
উল্লেখ্য, ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েলবাহী সাউদার্ন স্টার-৭ নামে একটি ট্যাঙ্কার একটি কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যায়। এতে জাহাজের অপর ৬ কর্মচারি সাঁতরে তীরে উঠলেও চালক মোকলেস নিখোঁজ ছিলেন।
এ ফার্নেস অয়েল নিঃসরিত হয়ে ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারের (বাংলাদেশ অংশে ৬ হাজার) সুন্দরবনের প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে পরিবেশবিদদের ধারনা।
নদীতে ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কারটি বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করে এক কিলোমিটার দূরে একটি চরে নিয়ে রাখা হয়েছে।