স্বাধীনতার চূড়ান্ত বিজয়ের পরে দেশের বিভিন্ন জেলা যখন মুক্ত তখনও গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া ও ভৈরব পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবলে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্ত হয় এ দুটি জেলা।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পরপরই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী মে মাসে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ায় ঘাটি স্থাপন করে। এরপর পুরো নয় মাস গ্রামের নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে হানাদার বাহিনী।
১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও তিন দিন পরও গোপালগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর যুদ্ধ অব্যাহত ছিল। ডিসেম্বরে এ দিনে তুমুল যুদ্ধের পর অবশেষে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ায় পাকিস্তানী সৈন্যরা আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। মুক্ত হয় গোপালগঞ্জ।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ভৈরবে শিবপুরের পানাউল্লারচরে হামলাচালায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। নিরস্ত্র-অসহায় পাঁচশতাধিক মানুষকে হত্যা করে তারা। ভৈরবকে শত্রুমুক্ত করতে মরণপণ যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। অবশেষে, ১৯ ডিসেম্বর সকালে হানারদার বাহিনীকে আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করে মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্ত হয় ভৈরব।