পদ্মা সেতুতে জমি-জমা, ঘর বাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ায় মাদারীপুর শিবচরের শতাধিক পরিবার রোববার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এদিকে, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শীতকালীন কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুতে জমি-জমা, ঘর বাড়িসহ যারা সব হারিয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও মেলেনি শিবচরের মানুষের বসতভিটার জমি এমন ক্ষতিপূরণের অর্থ।
সকালে মাদারীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবি আদায় না হলে বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্যে খুশি মনে জমি দিয়েছিলেন মাদারীপুর শিবচর উপজেলার দক্ষিণ চরজানাজাত ও রাখরেরকান্দি এলাকার বাসিন্দারা। জমি হারানোরা গত জুলাই মাসে ১৪৬৫টি আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নামঞ্জুর করে ওই আবেদন ফেরত দেয়া হয়।
পরে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকেও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় যাচাই-বাচাই করে মাত্র ৬৫ জনকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়।
এতে বাকি ক্ষতিগ্রস্তরা আন্দোলনে যান। এ অবস্থায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্যে মাঠে নামে তারা।
শত-শত নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্যে গঠন করেন ‘গঠিত সংগ্রাম পরিষদ’।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় বক্তারা, আন্দোলনের মধ্যে আগামী ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় কাওড়াকান্দি ঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ ও ২১ জানুয়ারি ঘাট এলাকায় গণঅবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। এতেও সমাধান না হলে লাগাতার হরতালের ঘোষণাও দেন তারা।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম ও সমন্বয় কমিটির আহবায়ক আব্দুল রশিদ শিকদার ও সমন্বয়ক হারুন বয়াতীসহ শত শত নারী-পুরুষ।