সুন্দরবনের ভিতরে প্রবাহিত নদীতে নৌযান চলাচলে একদিকে যেমন নদীর পানি দূষিত হচ্ছে অন্যদিকে শব্দ দূষণে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছে বনের পরিবেশ।
আর এ দূষণের ফলে বনের বৃক্ষ রাশির পাশাপাশি বন্যপ্রাণীও হুমকির মুখে রয়েছেন— জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির মতো ঘটনা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকিও থাকছে বলে জানান তারা।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর সমুদ্র বন্দর মংলা। আর এ বন্দরের খালাসকৃত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌপথে পাঠাতে ঘষিয়াখালী চ্যানেল তৈরি করা হয়। কিন্তু এ চ্যানেলের নাব্যতা সংকটের কারণে ২০১০ সাল থেকে বন্দরের পণ্য সুন্দরবন শ্যালা নদী দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। আর এ নৌযান চলাচলের কারণে ক্ষতি হচ্ছে বনের। সম্প্রতি ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় এ রুটের নৌচলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট অ্যান্ড ইড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের বিভাগের প্রফেসর ড. মো. নাজমুল সাদাত বলেন, বনের মধ্যেদিয়ে নৌযান চলাচলে নদীর ক্ষতিও হচ্ছে যমন তেমনি পরিবেশের।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের বিভাগের প্রফেসর ড. দিলীপ দত্ত একই কথা বলেন।
বনের এ ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় এনে বনের মধ্যেদিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধের দাবি জানান ঢাকার প্রধান বনসংরক্ষক, মো. ইউসুফ আলী।
এদিকে, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান জানান অন্যকথা। তিনি বলেন, বিকল্প রুট না থাকায় বনের মধ্যেদিয়ে নৌযান চলাচল করছে।
এদিকে, ১৫ ডিসেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে নৌবাণিজ্য যোগাযোগের বন্ধ হয়ে যাওয়া রুট, ঘষিয়াখালী চ্যানেল উদ্ধারে খালের মুখে থাকা চিংড়ি ঘেরগুলো বন্ধের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।