সুন্দরবনে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় পর থেকে বনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আগের মতো বন্য প্রাণীর দেখা মিলছে না। বিশেষজ্ঞদের আশংকা ফার্নেস অয়েলের কারণে বন্য প্রাণী আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। তবে বনের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলে আবারও প্রাণীদের দেখা বলে মনে করছেন তারা। বন্য প্রাণীর ক্ষতির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বন বিভাগ। এদিকে, বনের বিভিন্ন জায়গায় এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তেল।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ট্যাংকার ডুবিতে ছড়িয়ে পড়া ৩ লাখ ৫৭ হাজারের মধ্যে মাত্র ৬৫ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল এলাকাবাসী ও বনজীবীদের সহায়তায় সংগ্রহ করা হয়েছে। অবশিষ্ট তেল এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বনের বিভিন্ন স্থানে। এসব ছড়িয়ে থাকা ফার্নেস অয়েল খাবারের মধ্য দিয়ে শরীরে যাওয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বন্যকূলরা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সরদার শফিকুল ইসলাম বলেন, তেলের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হলেও বন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলে আবারো এসব প্রাণীর দেখা মিলবে।
খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় বন ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় এনে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
এদিকে, ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় শ্যালা নদীতে বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল। জীববৈচিত্র্য ও বনজীবীদের ওপর তেলের কারণে কোনো প্রভাব পড়ছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে তারা।
এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী ৩১ ডিসেম্বর সরকারের কাছে জমা দেবে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দলটি।