গাজীপুর বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে শনিবার বিশ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগসহ কোনো দলই সমাবেশ যাতে না করতে পারে সেজন্য ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ।
পুলিশ সুপার বলেন, দুই পক্ষের সমঝোতা না হলে কাউকেই ভাওয়াল কলেজ মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। জনসভাকে ঘিরে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। রাত থেকে যাদের গ্রেপ্তা করা হয়েছে সেটা নিয়মিত অভিযান।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া যদি কেউ জোর করে সভা-সমাবেশ করতে চায় তবে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গাজীপুরে শনিবারের জনসভার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সমাবেশকে ঘিরে যেনো কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে গাজীপুর জেলায়।
এর আগে সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গাজীপুরের সমাবেশ সফল করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, সকালে থেকে মিছিল করে সমাবেশস্থল ও আশপাশের শোডাউন করেছে ছাত্রলীগ ও সমমনারা। গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে টঙ্গী থানা যুবদল নেতাসহ ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে জনসভার ঘোষণা দেয় ২০ দল। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিন্তু তারেক জিয়া কটূক্তি করায় তার বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় ছাত্রলীগ। অন্যথায় খালেদা জিয়াকে গাজীপুরে ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়ে একই জায়গায় পাল্টা সমাবেশের কর্মসূচি দেয় ছাত্রলীগ।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয় গাজীপুর। চলে মিছিল, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি। শুক্রবার সকালেও মিছিল করেছে কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ ও ছাত্রলীগ। পুলিশের বাধায় মিছিল নিয়ে সমাবেশের মাঠে ঢুকতে না পেরে অবস্থান নেয় মহাসড়কে।
পুলিশ সমাবেশের অনুমতি না দিলেও দুদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।