সমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে গাজীপুরে শনিবার ঢিলেঢালাভাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। এদিকে সংখ্যায় কম হলেও সকাল থেকেই গাজীপুরে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। মোতায়েন রয়েছে ৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এ পরিস্থিতিতে গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন,ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশের অনুমতি পাচ্ছেনা কেউই। সেইসঙ্গে শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পুরো জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
সকালে হরতালের সমর্থনে ২০ দলের নেতাকর্মীরা, গাজীপুর জেলা শহরের বাইরে কয়েকটি স্থানে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে, পুলিশী বাধায় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় তারা। তবে এরপর থেকে মাঠে দেখা যায় নি ২০ দলের নেতাকর্মীদের। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ নেতাদের।
শনিবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে গাজীপুরের মানুষের জীবনযাত্রা ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। সকালের দিকে সংখ্যায় কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অধিকাংশ দোকানপাটই ছিল খোলা।
শুক্রবার রাতে দলের নেতাদের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠক শেষে গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন গাজীপুর জেলায় শনিবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচির কথা জানান গণমাধ্যমকে।
তবে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগসহ সমমনা সংগঠনগুলো হরতাল বিরোধী মিছিল সমাবেশ করেছে। জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমাবেশের নামে সহিংতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।
উল্লেখ্য, শনিবার গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে জনসভার ঘোষণা দেয় ২০ দল। তবে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরূপ মন্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায় ছাত্রলীগ। অন্যথায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে গাজীপুরে ঢুকতে দেয়া না হবে না- এ ঘোষণা দিয়ে, একই জায়গায় পাল্টা সমাবেশের কর্মসূচি দেয় ছাত্রলীগ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠে গাজীপুর।