সারাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ডাকা সকাল- সন্ধ্যা হরতাল সোমবার পালন করেছে তারা।
সকালে গাজীপুরের কয়েকটি জায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা। এসময় বিভিন্ন স্থানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেছে তারা।
সকালে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকা ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সদর থানা বিএনপি, আজিম উদ্দিন কলেজ এলাকায় মহানগর ছাত্রদল ও মালেকের বাড়ি এলাকায় যুবদল মিছিল বের করে।
এদিকে, হরতাল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি-জামাতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ।
সকালে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির নেতৃত্বে মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া চান্দনা চৌরাস্তায়ও হরতাল বিরোধী মিছিল করেছে তারা।
রাজশাহী:
মহানগরীর মিজানের মোড় থেকে সাতটি পেট্রোল বোমাসহ দুই হরতাল সমর্থককে আটক করেছে র্যা ব-৫। এদিকে, হরতালে নগরীতে পিকেটিং করতে দেখা যায়নি বিএনপিকে। তবে সাহেববাজার এলাকায় থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে তারা। হরতালের কারণে বন্ধ ছিল যান চলাচল।
সিলেট:
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীকে আটক করেছে পুলিশ। সকাল ৯টা ১০মিনিটের দিকে নগরীর চৌহাট্টা থেকে তাকে আটক করে কতোয়ালী থানা পুলিশ। এ সময় তার সাথে থাকা সুমন চক্রবর্তী ও জুয়েল আহমদ নামের দুই ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। প্রতিবাদের মঙ্গলবাল হরতাল ডেকেছে তারা।
তাদের গ্রেপ্তারের পরপরই সিলেট আদালত প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে করে মঙ্গলবার হরতালের ঘোষণা দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দিলদার হোসেন সেলিম।
তিনি বলেন, শাহরিয়ার চৌধুরীসহ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আধাবেলা হরতাল পালন করা হবে।
কতোয়ালী থানার ওসি আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে তাদেরকে আটক করা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন, হরতালে নাশকতার চেষ্টা করায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ৯টার দিকে সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে ৫ থেকে ৬ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী কোর্ট পয়েন্টের দিকে আসছিলেন। ৯টা ১০ মিনিটের সময় নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে আসামাত্র কতোয়ালী থানার ওসি তাকে আটক করেন।
পুলিশ জানায়, সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বোমাবাজি করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। তাই তাকে আটক করা হয়েছে।
খুলনা:
সারাদেশে বিএনপি ও তার শরীকদল ২০ দলের ডাকা হরতাল খুলনায় ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর পিটিআই মোড় থেকে হরতালে সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর কবরখানার মোড় পুনরায় পিটিআই মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে একই স্থানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে তারা। পরবর্তীতে নগরীর ডাক বাংলা মোড় থেকে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় গিয়ে শেষ হয়।
হরতালের কারণে সোনাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে যথাসময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্য ছেড়ে গেছে ট্রেন ও লঞ্চ। অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও ব্যাংক বীমা অফিস আদালতের কাজ ছিল বভাবিক ।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঢিলেঢালাভাবে চলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের হরতাল।
গত শনিবার গাজীপুরে সমাবেশ করতে না পারায় বিএনপি এ হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়।