কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার পুনবিচার শুরু হলেও ন্যায় পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ির উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবা নুর ইসলামের সঙ্গে মই বেয়ে কাঁটাতার বেড়া টপকিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় ফেলানী।
ফেলানীর নিথর দেহ কাঁটাতারের বেড়ায় ৪ ঘণ্টা ঝুলে থাকে। এ হত্যাকাণ্ড দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমসহ মনবাধিকার কর্মীদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।
অবশেষে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ফেলানী হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের কোচবিহারের সোনারী ছাউনিতে স্থাপিত বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যায় অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাদ দেয় আদালত।
পুনঃবিচারের দাবিতে ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের নিকট আবেদন করেন।
পরে বিজিবি-বিএসএফ’র দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে ফেলানী হত্যার পুনঃবিচারের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার শুরু করে বিএসএফ। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম বিএসএফের বিশেষ আদালতে অমিয় ঘোষকে অভিযুক্ত করে পুনরায় সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং অমিয় ঘোষের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর বিচারিক কাজ চলার সময় বিএসএফ আদালতে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ৪ মাসের জন্য বিশেষ আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়।
চলতি বছরের ২৫ মার্চ পুনরায় বিশেষ আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতে দীর্ঘ সূত্রিতার কারণে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সঙ্কায় রয়েছেন ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম ও মা জাহানারা বেগম।
একই শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন এ মামলার তদারকি করা কুড়িগ্রাম পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রহাম লিংকন।
ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ৪ বছর উপলক্ষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।