সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির ঘটনার প্রায় এক মাস পর বুধবার শর্তসাপেক্ষে আবারো ওই রুট দিয়ে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে।
এদিকে, নৌযান চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও সুন্দরবনের ক্ষতির আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ অধিদপ্তর।
মংলা সমুদ্র বন্দর চালু হওয়ার পর থেকেই সুন্দরবনের শ্যালা নদীর এ রুট দিয়ে নৌযান চলাচল করত। মাঝখানে বনের কথা বিবেচনায় এনে ঘষিয়াখালী চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচল করলেও নাব্যতা সংকটের কারণে ২০১১ সালে তা বাতিল করে আবারও শ্যালা নদীর রুট দিয়েই নৌযান চলাচল শুরু হয়।
গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ওই নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবে তেল ছড়িয়ে পড়ায় এ রুটে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
তবে মঙ্গলবার বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ রুটটি চালুর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির হুমকি দিলে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে শর্ত-সাপেক্ষে বুধবার থেকে পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয় সরকার।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে শুধু দিনের বেলা ত্রুটিমুক্ত নৌযান চলাচল করতে পারবে। কুয়াশা ও রাতে এ রুটে নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছাড়াও তেলবাহী কোনো ট্যাঙ্কার প্রবেশ করতে পারবে না এবং বনের মধ্যে কোনো নৌযান অবস্থান করতে পারবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এসব নৌযান চলাচলের বিষয়টি যৌথভাবে মনিটরিং করবে বনবিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌপুলিশ (কোস্টগার্ড) ও বন্দর কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় বনকর্মকতা জহির উদ্দিন আহমেদ।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই রুটে আবারও নৌযান চলাচল শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সুন্দরবন।
ঘষিয়াখালি চ্যানেলে নব্যতা সংকটের কারণে বিকল্প কোনো চ্যানেল না থাকায় বনের মধ্যেদিয়ে শর্তসাপেক্ষে নৌযান চলাচলে বনের তেমন ক্ষতি হবে না । তবে দ্রুত ঘষিয়াখালি চ্যানেল চালুর মাধ্যমে এই রুটে নৌযান বন্ধের দাবি পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন।
গতবছর ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির ঘটনার পর থেকে বনের জীব বৈচিত্রের কথা বিবেচনায় এনে বনের ভিতর দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধের সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়।