মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বুধবার মধ্য রাতে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ ৬টি যাত্রীবাহী বগি লাইনচ্যুত। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনায় অর্ধশধাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের টিলাগাঁও রেল ষ্টেশন ও মনু রেল ষ্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে রাত সোয়া ৩টায় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন আন্তঃনগর ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। রাত থেকেই সিলেট-ঢাকা-চট্রগ্রাম রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র মতে, সিলেট থেকে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ৭২৪০নং আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি মাইজগাঁও রেল ষ্টেশনে আসার পর যাত্রীরা চালককে জানায় বগির চাকায় কী যেন ঘষছে। চালক ও পরিচালক মিলে ট্রেনের ব্রেকে সমস্যা পাওয়ার পর সিলেট থেকে ইঞ্জিনিয়ার গিয়ে বগিটি সারানোর পর ট্রেন চালুর নির্দেশ দেয়া হয়।
পরে ট্রেনটি টিলাগাঁও স্টেশনের কাছে আসলে বিকট শব্দ করে পড়ে যায়। এ সময় গাড়িটির ৬টি বগি এবং ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়।
বগিগুলো হচ্ছে: ৮৪৯৭, ৭০১১, ৮৩০৯, ৯১৭১, ২১৪৩, ৯৩৯৬ এবং ইঞ্জিন নং ২৯৩৭।
প্রথমে ৮৪৯৭ এবং ৭০১১ নং বগিতে ত্রুটি ধরা পড়ে।
কুলাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ফায়ার ব্রিগেড ও সিলেটের ইনচার্জ পক্ষ থেকে জানা গেছে, এখানে শুধু হতাহত কয়েকজন হয়েছেন তবে নিহতের ঘটনা ঘটেনি।
ট্রেনটির চালক মো. আবুল কালাম খান বলেন, রেলের ২টি ফিস প্লেট খুলে ফেলার কারণেই এ দুর্ঘনা ঘটেছে। এটি দুর্ঘটনা নয় এটি নাশকতা।
এদিকে, জয়পুরহাট-জামালগঞ্জের মাঝখানে উড়িমাধব এলাকায় উপড়ে ফেলা রেললাইনের মেরামত কাজ সম্পন্নের পর ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
এর আগে ভোরে জয়পুরহাটের উরিব্রিজ এলাকায় রেল লাইন উপড়ে ফেলায় এ জেলার সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবর্তীপুর, সৈয়দপুর ও নিলফামারীর রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জয়পুরহাট ষ্টেশন মাষ্টার নুরুল ইসলাম বলেন, অবরোধকারীরা ওই এলাকায় রেল লাইনের প্যান্ডেল ক্লিপ ও ফিশ প্লেট খুলে ৩৬ ফুট রেল লাইন উপড়ে ফেলে। ফলে জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ট্রেন চলাচল বিচ্ছিন হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন।