অবরোধের আগুনে ঝড়ে গলে শিশুসহ ৫ জনের জীবন। সারাদেশে বিক্ষিপ্তভাবে চলছে ২০ দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির নবম দিন। রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতে জ্বলছে যানবাহন আর পুড়ে মারা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
রংপুরের মিঠাপুকুরে যাত্রীবাহী বাসে অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়ে শিশুসহ ৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন।
অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আরো ১১ জনকে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
অবরোধকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ে এতটাই কয়লা হয়ে গেছে দেহগুলো যে সনাক্ত করতে রংপুর মেডিকেল কলেজে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াতে হচ্ছে স্বজনদের।
বড়দের রাজনীতি অবরোধের নৃশংসতার হাত থেকে রক্ষা পায়নি তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী জেসমিনও। পাশের বাড়ির এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঢাকায় বাবা-মার কাছে যাচ্ছিল জেসমিন। বুধবার দুপুরে চাচাতো ভাই পুড়ে কঙ্কাল ছোট্ট শরীরটা জেসমিনের বলে সনাক্ত করেন।
পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে মারা গেছে কুড়িগ্রামের উলিপুরের রহিমা ও তার ছেলে রহিম বাদশাসহ আরো চারজন।
অবরোধকারীদের আগুনে দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন আরো ১১ জন। এদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মঙ্গলবার রাত দেড়টায় কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রিবাহী বাস রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন এলাকায় পৌঁছালে বাসটিকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়ে অবরোধকারীরা। এতে অগ্নিদদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন শিশু জেসমিনসহ চারজন। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় আরো একজন।
ভুক্তভোগীদের উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, মিঠাপুকুর উপজেলা সদরে মহাসড়কে বাতাসন এলাকায় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে তারা। এ সময় এক শিশুসহ ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা দেশ টিভিকে জানিয়েছেন, উলিপুর থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় মিঠাপুকুর উপজেলা সদরের কাছে মহাসড়কে আকস্মিকভাবে বাসে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। এ সময় সবাই প্রাণ ভয়ে বাস থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
অনেকেই বাসের জানালার গ্লাস ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অনেক যাত্রী বের হতে না পারায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে বাসের ভেতরে মারা যান।
অগ্নিদগ্ধ ১২ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে হাসপাতালেই একজন মারা যান।
অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে ৩ জনকে রংপুর সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, ভোর রাতে নড়াইলের নড়াগাতি থানার বাসস্ট্যান্ডে পার্কিং অবস্থায় ঢাকাগামী একটি যাত্রিবাহী বাসে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় পিকেটাররা।
রাতে পুলিশ প্রহরায় গাইবান্ধা থেকে একটি যাত্রিবাহী বাস ঢাকা যাওয়ার পথে পলাশবাড়ী পৌঁছালে অবরোধকারীরা বাসটিতে পেট্রোলবামা ছোড়ে।
যশোর থেকে রাজশাহীগামী একটি মিনি ট্রাক নাটোরের আহম্মদপুরে পৌঁছালে অবরোধকারীরা ট্রাকটিকে থামিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়াও পিরোজপুর ও দিনাজপুরের ২টি মালবাহী ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে, ২০ দলের ডাকা অবরোধের ৯ম দিনে রাজধানীর সড়কগুলোতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করেছে। রাজধানীর সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। স্বাভাবিক রয়েছে লঞ্চ চলাচল। আর দূরপাল্লার বাস চলতে দেখা গেছে অনেক রুটে।
নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।