দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একজন নিহত হওয়ায় আদিবাসী গ্রামে হামলা, ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও হামলার ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামটি আর খোলা আকাশের নীচে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে আদিবাসী নারী-শিশুরা।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাবিবপুর গ্রামে ২১ একর জমি নিয়ে আদিবাসী ও বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিল।
গত ২৪ জানুয়ারি ওই জমিতে সেচের কাজে পানি দিতে যায় জমির মালিক বলে দাবিদার জহিরুল হক ও তার ছেলে সোহাগ। এ সময় আদিবাসীরা বাধা দিলে দুইপক্ষে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে আদিবাসীদের তীরে বিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় চিড়াকূটা গ্রামে আদাবাসীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। বাধা দিতে গেলে বাড়ির মহিলাদের মারধর করে তারা। পরে ৪৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার। এ পর্যন্ত ১৯ জন আদিবাসীকে আটক করেছে পুলিশ।
এদিকে, গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও হামলার ভয়ে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। আর ঘরবাড়ি মেরামত করতে না পারায় খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছে অনেকে।
দিনাজপুর পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম বলেন, ঘটনার পর থেকেই আদিবাসীদের নিরাপত্তায় চিড়াকূটা গ্রামে পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে।