দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার অচিন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নজরুল ইসলাম (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিতে আহত হয়েছেন আরেক বাংলাদেশি। এদিকে, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী সীমান্ত থেকে ৪ জনকে আটক করেছে তারা।
এলাকাবাসী ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন মিলে অচিন্তপুর সীমান্তের ২৯৫ নং মেইন পিলারের কাছে জমিতে ধান রোপন করতে যান। এ সময় ভারতের ৯৬ বিএসএফ ঘুরছি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নজরুল ইসলাম নিহত হন।
বিএসএফের সদস্যরা নিহত নজরুল ইসলামের মরদেহ টেনে-হেঁচড়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। তাদের গুলিতে আহত হন সাহাজুল নামে আরেক বাংলাদেশি। সাহাজুলের পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে বিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
স্থানীয় বিনাইল ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য রোমা পারভীন জানান, সকালে কয়েকজন মিলে তারা নিজের জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করতে গিয়েছিল। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে।
দিনাজপুর-২৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদুর রশিদ পিএসসি জানান, নিহতের বিষয়ে বিএসএফর সাথে যোগাযোগ হয়েছে।
নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার চাপড়া গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে।
এদিকে, সকালে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নাগরভিটা সীমান্তে ৩ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ। তাদের ফেরতের জন্য বিজিবি জরুরি স্পট ফ্লাগ মিটিংয়ের আয়োজন করেছে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সমীরনগর কলোনির সাদেকুল (২৮), আলম হোসেন (২৩) ও জমিরউদ্দিন (১৭)। সোমবার ভোরে নাগরভিটা সীমান্তের ৩৭৮পিলারের ওপারে আড়াইশ গজ ভারত সীমান্তের ভেতরে চোরভিটা গ্রামে বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে। পারিবারিক সূত্র দাবি করেছে, আটক ব্যাক্তিরা বেশ কিছুদিন আগে ভারতে কাজের সন্ধানে যান। সকালে ফিরে আসার চেষ্টা করার সময় ভারতের ১২১ বিএসএফের চাকলাগড় ক্যাম্পের টহল দল তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। একই সীমান্তে গতকাল সন্ধ্যায় মশালডাঙ্গী গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (২৮) ও বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে।
ঠাকুরগাও ৩০বিজিবি পরিচালক লে.কর্নেল তুষার বিন ইউনুস বলেন, তাদের ফেরতের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যাটালিয়নপর্যায়ে যোগাযোগ চলছে। জরুরি স্পট ফ্লাগ মিটিংয়ের আযোজন করা হয়েছ।
তিনি বলেন, বিএসএফ জানিয়েছে, আটক বাংলাদেশিদের কাছে ৭৫ হাজার ভারতীয় রুপি পাওয়া গেছে।