এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে কেয়াকে নিয়ে আর পরীক্ষা কেন্দ্র যাওয়া হলো না বাবা আব্দুর রহমানের। অবরোধকারীদের দেয়া আগুনে নিভে গেল তার জীবন প্রদীপ। মারা যাওয়ার কিছু সময় আগেও মেয়ের সঙ্গে শেষবাবের মতো কথা হয়েছে তার। ফেরা আর হলো না, দগ্ধ হয়ে ফেরা হলো কফিনে।
গত মঙ্গলবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় শিকার হন আব্দুর রহমান। রাজধানীর কাপ্তানবাজারে পাখির ব্যবসা করতেন তিনি। পেটের টানে ব্যবসার কাজে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজার যান তিনি। কাজ শেষ করে সোমবার রাত ৯টায় আইকন পরিবহন নামের একটি নৈশকোচে ঢাকায় ফিরছিলেন।
যাত্রীরা সব ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসটি পৌঁছালে দৃর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা ছোড়ে। মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় রহমানসহ আরও ৬ যাত্রী।
বুধবার সকাল ৮টার দিকে রহমানের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামের বাড়ি পৌঁছেলে স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।
এ সময় আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন স্থানীয়রা।
কক্সবাজার থেকে রওনা দেয়ার পরও মোবাইল ফোনে রহমান কথা বলেছিল আদরের বড় সন্তার এসএসসি পরীক্ষার্থী কেয়ার সাথে। বাবার মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হয়েছে কেয়ার কাছে। বাবার হাত ধরে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাবে এই আশা নিয়ে এখনও বাবার ফেরার পথ চেয়ে আছে কেয়া।
কেয়ার মামা মনির হোসেন দেশ টিভিকে বলেন, পরীক্ষার জন্য বাবার মৃত্যুর খবর তার কাছে গোপন রাখা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের জন্য খালেদা জিয়াকে দায়ী করেছেন নিহতদের স্বজনরা।
ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া ও ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কিত নিহতের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার।
মরদেহ তার নিজ গ্রামে শরীয়তপুরের গোসাইহাট উপজেলার নাগেরপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক।
দাফনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য নিহতের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা করেছে জেলা প্রশাসন। ভবিষতে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস।
এটা কোনো আন্দোলন নয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলেছে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন।