গাইবান্ধায় যাত্রীবাহী নাইট কোচে পেট্রোল বোমা হামলায় মা ও শিশুসহ মারা গেছেন ৭ জন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
শনিবার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ৮ জনের অবস্থা আশংকাজনক ভর্তি করা হয়। পরে বিকেলে আর একজন মারা যান।
গাইবান্ধা জেলার তুলসীঘাট এলাকায় ঢাকাগামী নাইট কোচ নাপু এন্টারপ্রাইজে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে।
এদের সকলের শরীরের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
এদিকে, অগ্নিদগ্ধ বাস যাত্রীদের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হলে তাদের শরীর পুড়ে যাবার যন্ত্রনা আর আর্তনাদে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
অগ্নিদগ্ধ বাস যাত্রীরা জানায়, শুক্রবার রাতে তারা গাইবান্ধা থেকে নাপু এন্টারপ্রাইজ নামে নাইট কোচে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পুলিশী পাহারায় অন্যান্য বাসের সাথে তাদের বাসটিও যাবার পথে রাত ১১টার দিকে বাসটি গাইবান্ধার তুলসীঘাট এলাকায় পৌঁছলে একদল দুবৃর্ত্ত বাসটি লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে বাসের মধ্যেই ৪ জন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত হন ৩০ যাত্রী। বাস যাত্রীদের সকলের বাড়ি সুন্দরগজ্ঞ উপজেলার চন্ডিপুর ও কামারের ভিটা গ্রামে। তারা সকলেই সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র । তারা কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
পরে এলাকাবাসি ও পুলিশের সহায়তায় ৫টি অ্যাম্বুলেন্সে করে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ ২০ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসে। পরে মা সোনাভান বেগমও তার ৯ বছরের শিশু পুত্র সুমন মারা যান।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা, মারুফুল ইসলাম জানান, অগ্নিদগ্ধ যাত্রীদের মধ্যে ৮ জনের শরীরের ৯০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থা খুবই আশংকাজনক। এ ছাড়া অন্যান্যদেরও শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে।
তিনি জানান, ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ ২০যাত্রীকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।