সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিওমেক) ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ নবজাতক, বিভিন্ন বয়সের ১০ শিশুসহ ৩২ জন মারা গেছে।
স্বজনদের অভিযোগ ভুল চিকিৎসায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন ঠাণ্ডাজনিত কারণসহ বিভিন্ন রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা জানিয়েছে।
সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ধারণক্ষমতা ৫০০ জন হলেও বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে ১৭১৮ জন। বিপুল সংখ্যাক এই রোগীকে সেবা দিতে যে পরিমাণ জনবল দরকার না থাকাকে এ মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন রোগীর সংশ্লিষ্টরা।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গতকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সিওমেকের ভিন্ন ভিন্ন ওর্য়াডে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে ৫ জনই নবজাতক। ভুল চিকিৎসায় এ শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
মৃত শিশুরা হলো- সিলেটের গোয়ান উপজেলার দেড় বছরের সায়মা, জকিগঞ্জের দশগ্রামের সাতদিনের আকাশ, নগরীর শেখঘাট এলাকার নিলুফার নবজাতক, শহরতলীর শাহ পরানের আসমার নবজাতক, একই এলাকার সন্ধ্যা রানীর নবজাতক, সুনামগঞ্জ সদরের তাজরিয়া, একই এলাকার আড়াই মাসের মেহেদি, ছাতকের তিন বছর বয়সী শাপরাজ, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের ছয়মাসের নাদিয়া ও হবিগঞ্জের তিনদিনের শিশু ইয়াসমিন।
তবে ঠাণ্ডাজনিত কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের ২১, ২২ নম্বর ওয়ার্ড এবং মা ও শিশু ওয়ার্ডে এসব শিশুর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের উপপরিচালক আবদুস সালাম জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ নম্বর ওয়ার্ডে দুই, ২২ নম্বরে পাঁচ এবং মা ও শিশু ওয়ার্ডে বাকিরা মারা গেছে।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এতোগুলো শিশুর মৃত্যুর এ ঘটনাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক বলে দাবি করলেও হাসপাতালের অন্যান্য রোগী এবং মৃত শিশুদের স্বজনরা বলছেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই একদিনে এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
উপপরিচালক আবদুস সালাম বলেন, ‘জন্মগত জটিলতা, অপুষ্টি, সংক্রমণ ও নিউমোনিয়ায় শিশুগুলোর মৃত্যু হয়েছে। তারপরও আমরা চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। তারা অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে।’
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ইসমাইল পাটোয়ারীকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিকে আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।