অবরোধ আর হরতালের নামে বিএনপি-জামাতের নাশকতা পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে অগ্নিদগ্ধ রোগী ধারণের আর জায়গা নেই। বাধ্য হয়েই সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। গত একমাসে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে এখানে ভর্তি হয়েছেন ৫৭ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ জন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রিকসাচালক মোতালেব। কাজের সন্ধানে নাইট কোচে ঢাকায় যাবার সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হন। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর থেকে অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করছেন মোতালেব।
পরিবারের উপার্জনের একমাত্র উৎস ছিলেন মোতালেব। তার এভাবে বিছানায় পড়ে যাওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন স্ত্রী আনোয়ারা। একই অবস্থা দিনাজপুরের দিঘিপাড়া ট্রাক চালক হামিদুর রহমানসহ অনেকের।
গত একমাসে রংপুরের গাইবান্ধা ও দিনাজপুর জেলায় এ পর্যন্ত পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে ৫৭ জন বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০জন মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন আছেন আরো ২৩ জন। ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বার্ন ইউনিটে বেডের চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম।
এদিকে, সহিংসতার শিকার অগ্নিদগ্ধ রোগীদের ঔষধসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মেদ।
পেট্রোলবোমায় অগ্নিদগ্ধ রোগীদের আরোও উন্নত চিকিৎসা প্রদানে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম সরবরাহ করার দাবি রোগী ও বিশেষজ্ঞদের।