টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় বালুবোঝাই ট্রাকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় ট্রাকচালক ও হেলপার দগ্ধ হয়েছেন। চালক উজ্জল (৩৫) ও হেলপার মামুনের (২০) বাড়ি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কান্দিলা এলাকায়। বুধবার রাত একটার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, চট্টগ্রাম শহরে যাত্রীবাহী গাড়িতে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় ৩ জন দগ্ধসহ ৮ যাত্রী আহত হয়েছেন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার আশরাফ আলী জানান, দগ্ধ হেলাপার মামুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ৪০ ভাগ পুড়ে গেছে। আর চালক উজ্জলের শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় রাতেই তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখেরুজ্জামান জানান, বুধবার রাতে ভুঞাপুরের পাতাইলকান্দি থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক টাঙ্গাইলে যাওয়ার পথে বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্ব থানার গোলচত্বর এলাকায় এলে দুর্বৃত্তরা ট্রাকটি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে ট্রাকে আগুন ধরে গেলে চালক ও হেলপার দগ্ধ হন।
স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। দগ্ধ চালক ও হেলপারকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদেরকে ঢামেকে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম শহরে যাত্রীবাহী গাড়িতে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় ৩ জন দগ্ধসহ ৮ যাত্রী আহত হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে সুভাষ সোম নামে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বারকুণ্ডের মাহমুদাবাদ এলাকার বীরেন্দ্র কুমার সোমের ছেলে।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর টাইগার পাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর টাইগার পাস এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাইডার গাড়িতে পেট্রোলবোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ৩ যাত্রী দগ্ধ হন। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আহত হন আরও ৫ জন। এর মধ্যে ৭ জন বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসাপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে সুভাষ সোম নামে এক জনকে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
সকালে তাকে চমেকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক মিসমা ইসলাম জানান, সুভাস সোমের শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। আগুনে তার মুখমণ্ডল ও শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আজই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
খবর পেয়ে চমেক হাসপাতালে যান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল। তিনি অগ্নিদগ্ধ সুভাষ সোমের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন।