বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের ঢাকা টানা হরতালের মধ্যে ক্লাস নেয়ায় রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর বালিকা ঊচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ‘আন্দোলনকামী কর্মীবাহিনী’ লাল রঙের কাগজে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
ওই চিঠিতে হরতালে ক্লাস নিলে স্কুলে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকালে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর এ চিঠি হাতে পেয়েছেন। দুপুরের দিকে তিনি রাজপাড়া থানায় এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জিডি করার কথা সাংবাদিকদের জানান।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর বলেন, এত দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীরা আর বাসায় থাকতে পারছে না। প্রতিদিন তারা বিদ্যালয়ে এসে ভিড় করছে। অভিভাবকেরা বলছেন, পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, সিলেবাস শেষ হবে না। এ জন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তারা ক্লাস নিয়েছেন।
আইরিন জাফর আরো বলেন, আজ স্কুলে পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল। পরীক্ষা শেষ করে তিনি থানায় জিডি করেছেন। সেখান থেকে পুলিশ কমিশনারের কাছে যাবেন। জেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি জানাবেন বলে তিনি জানান।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর জানান, চিঠির শিরোনাম ছিল ‘১৬ কোটি মানুষের বিজয় হোক’। চিঠিতে ‘জনাব/জনাবা’ সম্বোধন করা হয়েছে। শুরুতে সালাম দিয়ে বলা হয়েছে ‘আশা করছি মহান আল্লাহর কৃপায় ভালোই আছেন।’
চিঠির পরের বাক্যটি এ রকম, ‘অতীব দুঃখের সাথে আপনাকে জানাতে হচ্ছে যে, আপনি হরতালের মধ্যে ছোট ছোট নিষ্পাপ শিশুদের নিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে আপনার প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। আমরা মনে করি আপনি ঝুঁকির মধ্যে স্কুল চালিয়ে বর্তমান সরকারের চাটুকারিতা করে চলেছেন। আপনি ইতিমধ্যেই জেনেছেন সারাদেশে বিভিন্ন জেলায় পেট্রোলবোমাসহ ধরা পড়ছে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।’
চিঠিটির পরের অংশে প্রধান শিক্ষকের উদ্দেশ্য লেখা হয়, ‘হরতালের দিনগুলোতে আপনার প্রতিষ্ঠান যদি চালান তাহলে আপনার গতিপথ আমরা পরখ করছি। কখন, কবে, কোন সময় আপনার প্রতিষ্ঠানে পেট্রোলবোমা নয়, অন্য কোনো বোমা বিস্ফোরিত হলে তার দায়িত্ব কে নিবে-আপনি না সরকারি দল না, বিরোধীদল।’
চিঠিতে এরপরে হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখা হয়, ‘যদি এরকম কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে শিশুদের সমস্ত দায়দায়িত্ব আপনার ওপরেই বর্তাবে বলে আমরা মনে করি।’
আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘শেখ হাসিনার চক্রান্ত দেশের জনগণ আজ ধরতে পেরেছে। সেজন্য সকলেই সচেতন। শুধুমাত্র আপনি এখনো সচেতন হন নাই সেজন্য আমরা দুঃখিত। আমরা মনে করছি, এ চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার বোধোদয় হবে। আপনি হরতালের দিনগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের সাধারণ পোশাকেও প্রতিষ্ঠান চালাবেন না।’
চিঠিতে লক্ষ্মীপুর বালিকা ঊচ্চবিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়াও প্রাপককে ‘জনাব/জনাবা’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। এতেই বোঝা যাচ্ছে একই চিঠি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেয়ার জন্য ছাপানো হয়েছে। চিঠিটি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। খামের সিলটি অস্পষ্ট হওয়ার কারণে কোন জায়গা থেকে ছাড়া হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না।