কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের গুলিবিনিময় হয়েছে। এ ঘটনায় এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হন এবং আটক হয়েছেন ১০৮ জন রোহিঙ্গাকে।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে শাহ আবদুল কাদের ফকিরের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মাহফিলে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আসা অনেক রোহিঙ্গা অংশ নেয়। শুক্রবার সকালে ৪টি চান্দের গাড়িতে করে শতাধিক রোহিঙ্গা মাহফিল থেকে উখিয়ার দিকে যেতে থাকে।
বালুখালী পানবাজার এলাকায় বিজিবির সদস্যরা গাড়ি থামিয়ে রোহিঙ্গাদের আটক করে। এর প্রতিবাদে জিপ গাড়ির চালক স্থানীয় শাহ আলমগীর, রোহিঙ্গা দালালসহ স্থানীয় কিছু দালাল টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে রোহিঙ্গাদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় বিজিবির সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে দালালরা গুলি চালায়। এতে বিজিবি সুবেদার ফজলুল হক গুলিবিদ্ধ হন। এরপর বিজিবির সদস্যরা ফাঁকা গুলি করলে দালালরা ইটপাটকেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে ধাওয়া করে বিজিবির সদস্যরা জিপ গাড়ির চালকসহ ১০৮ জনকে আটক করে।
কক্সবাজারে বিজিবির ১৭ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ১০৮ জন রোহিঙ্গাকে বেলা ১২টার দিকে দুটি জীপে নিয়ে বালুখালী সীমান্ত দিয়ে কুতুপালং ক্যাম্পে পাচার করছিলো দালালরা। এ সময় বিজিবি সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গাদের আটক করে।
এ সময় দালালরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। এতে সুবেদার ফজলুল হক গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ বিজিবির সদ্যকে প্রথমে উখিয়া হাসপাতাল ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।