নারায়ণগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় শনিবার আরো শিশুসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়— এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. মোমতাজ উদ্দিন জানান, শনিবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের টহল ও ডুবুরি দল আবারও নদীতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলে পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।
এই পাঁচজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- রাজধানীর লালবাগ শহীদনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৩৫) ও একই এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে মাদ্রাসাছাত্র হাবিব (১২)।
নিহত অন্য তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে তাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুরের মতলব থেকে ৭০/৮০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ট্রলারটি বেলা পৌনে ১টার দিকে কেরাণীগঞ্জের আলীগঞ্জের পানগাঁওয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে ‘সাথীবুল বাহার-২’নামে একটি বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় ডুবে যায়।
আশপাশের লোকজনের সহায়তায় অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ থাকেন।
এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদলের উদ্ধারকর্মীরা নদী থেকে আরও সাতজনের লাশ উদ্ধার করেন।
এদিকে, বুধবার রাতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আর কারোর সন্ধান মেলেনি। তাদের সন্ধানে নদীতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে নৌপুলিশ।
এছাড়া, বৃহস্পতিবার ভোলার মনপুরার ঢালচরে ঝড়ের কবলে পড়ে মাছ ধরার ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ ২৪ জেলেকে হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপ থেকে শুক্রবার সকালে উদ্ধার করা হয়। লাইভ জ্যাকেট ধরে ভাসতে ভাসতে তারা ওই দ্বীপে পৌঁছায় বলে জানা গেছে।
পরে কোস্টগার্ড জেলেদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের সবার বাড়ি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়।