কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে রোববার রাতে কালবৈশাখী ঝড় ও শীলাবৃষ্টিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যশোরেও কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ২ দিনে বগুড়া, যশোর ও কুষ্টিয়াসহ সাত জেলায় ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় দেড়শ মানুষ।
আমাদের সংবাদদাতা জানিয়েছেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার উজানগ্রাম, আইলচারা, ঝাউদিয়াসহ আরও কয়েকটি ইউনিয়নে শতাধিক বাড়িঘরের টিনের চাল শিলার আঘাতে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের।
যশোরেও রাতে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, শনিবার মওসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা। রাতের আধারে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা তেমন বোঝা না গেলেও, পরদিন সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে হতবাক হয়ে পড়েন শহরবাসী।
বগুড়ায় প্রানহানির সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাড়িয়েছে। আহত হয় অর্ধশতাধিক। ঝড়ের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে । পুরো জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সিরাজগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে, বজ্রপাত ও নৌকাডুবিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে একজন। এছাড়া নাটোর, পাবনা, নওগাঁ ও জামালপুরে বজ্রপাতে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, শনিবারের ঝড়ে রাজশাহীতে ৫জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও ঝড়ে ৬ হাজার ৯৬৭টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫ হাজারেরও বেশি বসতবাড়ি। ১৭৬ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া রাজবাড়ি, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, কুড়িগ্রামসহ ৮ জেলার বেশ কিছু জায়গায় গাছপালা, ঘরবাড়িসহ উপড়ে গেছে বৈদ্যুতিক খুটি। এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অনেক এলাকা।
এর আগে গত শনিবারের কালবৈশাখী ঝড়ে মারা যান ৩৬ জন। এর মধ্যে বগুড়ায় মারা গেছেন ২০ জন।