সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির ৫ মাসের মাথায় বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলা নদীর বিমলের চর এলাকায় একটি সারবাহী কার্গো ডুবে যাওয়ার ৩ দিন পার হলেও এখনো উদ্ধার করা হয়নি। ফলে নদের পানিতে গলছে সার।
ছড়িয়ে পড়া সারের কারণে জীবজন্তুর কোনো ক্ষতি হবে না বলে জেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ দাবি করলেও বিশেষজ্ঞরা বলেন ওই এলাকায় জলজ প্রাণীর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে, জাহাজডুবির ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাগেরহাটের শরণখোলা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে আসা উদ্ধারকারী জাহাজ এমবি নুসরাত-ই-হক ও এমবি তছির উদ্দিন রাতে কোনো কিছু না জানিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বন বিভাগের শ্রমিকরা বালতি দিয়ে গলে যাওয়া সার অপসারণ করছেন। জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়া সারের লাল ও পুরু আস্তরণ ভাসছে পানিতে। ঘটনাস্থলে জাহাজের মালিক পক্ষ বা মাস্টার-নাবিক কাউকে পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা অঞ্চলের বনসংরক্ষক (সিএফ) ড. সুনীল কুমার কুণ্ডু, পূর্ব বনবিভাগ বাগেরহাটের ডিএফও মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী ও বাগেরহাট কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. জয়নুল আবেদীন।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ড্রেজার দিয়ে সার তোলার চেষ্টা করা হবে। বিকল্প রুট চালু না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচলের নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। মংলার ঘষিয়াখালী নৌ-চ্যানেল চালু হলে সুন্দরবন দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হবে।
বনসংরক্ষক (সিএফ) ড. সুনীল কুমার কুণ্ডু জানান,ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিকপক্ষের কারো সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যায়নি। আর সার অপসারণের কাজ চলছে বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে। পটাশ সার জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, 'পটাশ সার পানিতে মিশলেও মাছ ও ডলফিনের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। তবে শামুক,ঝিনুকসহ ক্ষুদ্র কিছু জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।'
এদিকে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাজের কিছু কাগজপত্র জব্দ করেছেন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ অতুল মণ্ডল। এসব কাগজে মালিক পক্ষের নামের জায়গায় 'আমিনুল ইসলাম গং' লেখা পাওয়া গেছে। জব্দ করা কাগজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।
শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামাল আহমেদ জানান,ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিক বা অন্য কারোর নাম ঠিকানা না পাওয়ায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মঙ্গলবার রাতেই শরণখোলা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
গত ৩ মে বিকেল ৫টার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদের মরাভোলা বিমলের চর এলাকায় ডুবো চরে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় জাবালে নূর নামে একটি কার্গো জাহাজ (এম-৬৯৪৩)। মেসার্স আল এহসান শিপিং লাইন্সের জাহাজটি ডোবার সময় এতে পাঁচশ টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) ছিল।
এরআগে গত ৯ ডিসেম্বর চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ফার্নেস তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘সাউদার্ন স্টার সেভেন’ ডুবে যায়। ট্যাঙ্কারের তেল সুন্দরবনের নদ-নদীতে মিশে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সেই থেকে এক মাস সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকে। ওই ঘটনার ৫ মাসের মাথায় সুন্দরবনে সারবাহী জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটল।