যশোরে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মানবপাচার দালালচক্র। এ চক্রের সদস্যরা ভাল চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধভাবে যশোরের নারী-পুরুষদের থাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছে।
তারপর বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তাদের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। টাকা না দিলে দুর্বিষহ নির্যাতন করা হচ্ছে তাদের। যৌনপল্লীতে বন্দি রেখে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে নারীদের। এমন বন্দিদশা থেকে তাদের ফিরে পেতে জমি বন্ধক রেখে কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পাচারকারীদের হাতে মুক্তিণের টাকা তুলে দিতে হচ্ছে স্বজনরা।
যশোরের বেনাপোলের গাজীপুর গ্রামের মেয়ে আঞ্জুমান আরা। ৮ বছর আগে দুই সন্তানসহ তাকে ফেলে রেখে যায় তার স্বামী। একই গ্রামের আয়েশা খাতুন দুবাইয়ে চাকরির প্রলোভন দেখায় আঞ্জুমান আরাকে। প্রলুব্ধ হয়ে আঞ্জুমান আরা শেষ সম্বল জমি বন্ধক রেখে দেড় লাখ টাকা দেন আয়েশাকে। কিন্তু দুবাইয়ের বদলে ওমানে নিয়ে আঞ্জুমান আরাকে দালালদের কাছে বিক্রি করে দেয় আয়েশা। ৫ মাস সেখানে আটকে রেখে তার ওপর চলে নির্মম নির্যাতন।
আঞ্জুমান আরাকে ফিরিয়ে আনতে লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আয়েশা ও দালালরা। কিন্তু তার গরীব বাবা মা এ টাকা দিতে না পারায় আঞ্জুমান আরাকে দেশে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সহায়তা পায়নি তার বাবা-মা। উল্টো আয়েশার দেয়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।
এদিকে, পাচারের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি অভিযুক্ত আয়েশার।
পাচারের পর বন্দিদশা থেকে কয়েকজনকে দেশে ফিরিয়ে আনাসহ পাচারকারি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর। এ ধরনের মানবপাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানান সংগঠনটির প্রধান বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।