গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঠুটামান্দ্রা গ্রামে আঁখি বাগচী (পাখি) নামের এক কলেজ ছাত্রী এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, শুক্রবার গভীর রাতে ঘোষালকান্দি গ্রামের রথিন ঘোষ নামের এক বখাটে আঁখির ঘরে ঢুকে তার ওপর এসিড নিক্ষেপ করে। বর্তমানে আঁখি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আঁখির বাবা সুভাষ বাগচী বাদী হয়ে মামলা করলে দুই জনকে আটক করে পুলিশ। তবে, পলাতক রয়েছে রথিন ঘোষ।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর সপ্তপল্লী মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী আঁখি। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে পাশের ঘোষালকান্দি গ্রামের বখাটে রথিন ঘোষ হোগলা পাতার বেড়া কেটে আঁখির ঘরে প্রবেশ করে। তারপর, আঁখির ওপর এসিড ছুঁড়ে পালিয়ে যায় সে। এতে ঝলসে যায় তার মুখমণ্ডল ও শরীর।
আঁখির স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই আঁখিকে প্রেম নিবেদন করে আসছিল রথিন। পরে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আঁখি বা তার পরিবারের কেউ এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের বেশ কয়েকবার হুমকিও দেয়া হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গ্রামের গণ্য-মান্যদের নিয়ে শালিস বৈঠক করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আঁখিকে মামাবাড়ি কৃষ্ণপুরে পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়।
ধান কাটার মৌসুম হওয়ায় সাহায্য করতে কয়েকদিন আগে বাড়ি আসে আঁখি বলে জানান মা মমতা বাগচী।
ঘটনার পরপরই আঁখিকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ১০ % ঝলসে গিয়েছে বলে জানান, গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিয়াজ আহম্মেদ।
এ ঘটনায় শনিবার আঁখির বাবা সুভাস বাগচী বাদী হয়ে রথিন ঘোষসহ ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।