সিলেটে অনন্ত বিজয় দাশ (৩০) নামে মঙ্গলবার আরেক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে উগ্রপন্থীরা। মঙ্গলবার সকালে সিলেটের সুবিদবাজারে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে বিকেলে ‘আনসার বাংলা ৮’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন এক টুইটার বার্তায় হত্যার দায় স্বীকার করেছে। নিহত অনন্ত বিজ্ঞান বিষয়ক ছোট কাগজ ‘যুক্তি’র সম্পাদক ছিলেন।
সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠকও ছিলেন তিনি। হত্যার প্রতিবাদে বুধবার মহানগরীতে হরতালের ডাক দিয়েছে সিলেট গণজাগরণ মঞ্চ।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের সুবিদবাজারের বনকলাপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে বেরিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন ব্লগার ও বিজ্ঞান লেখক অনন্ত বিজয় দাশ। এসময় উগ্রপন্থীরা তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেছন দিক থেকে তার মাথায় আঘাত করে তারা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনন্তকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে 'আনসার বাংলা ৮' নামে একটি জঙ্গি সংগঠন। বিকেলে এক টুইটার বার্তায় হত্যার দায় স্বীকার করে তারা।
'যুক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছাড়াও, অনন্ত বিজ্ঞান মনষ্ক ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সভাপতি ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় বস্তুবাদ ও যুক্তিবাদ নিয়ে ব্লগে লিখতেন। তাঁর লিখিত বিজ্ঞানভিত্তিক একাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে, 'সোভিয়েত ইউনিয়নে বিজ্ঞান ও বিপ্লব: লিসেঙ্কো অধ্যায়', জীববিবর্তন সাধারণ পাঠ, 'ডারউইন: একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা' অন্যতম।
গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত বিজ্ঞান লেখক অভিজিতের একটি বইয়ের ভূমিকাও লেখেন তিনি। অনন্ত পূবালী ব্যাংকের জাউয়া বাজার শাখায় চাকরি করতেন।
এদিকে, অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকাণ্ডের পর সিলেটের স্থানীয় ব্লগার ও এক্টিভিস্টরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষনিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করে। অবিলম্বে অনন্তর হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানায় তারা।
এর আগে, ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে জঙ্গিদের হামলায় নিহত হন বিজ্ঞান লেখক ও মুক্তমনা ব্লগারের প্রতিষ্ঠাতা ডা. অভিজিৎ রায়। সে ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।